Friday , 24 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

গ্যাস সংকটে ভোগান্তি চরমে

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 24, 2026 11:31 am

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির একটি এলএনজি টার্মিনাল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ করতে না পারায় নতুন করে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা যেমন অচল হয়েছে, তেমনি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয়ও শুরু হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা। এ ছাড়া টার্মিনালটি দ্রুত মেরামত না হওয়ায় আরও সংকট বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠিক কখন স্টেশন ঠিক হবে সেটা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির উত্তরণ কবে আসবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও। এলএনজি সরবরাহে নিয়োজিত ভাসমান টার্মিনাল মেরামতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রূপান্তরিত প্রকৃতিক গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ বা এলএনজি টার্মিনালে আংশিক আগুন ধরে যাওয়ার কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে বলে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত মেরামতের অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনার চেষ্টা করছে। তারা আসার পর মেরামতের অগ্রগতি বলা যাবে।

গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোয় তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বনশ্রীসহ অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা গ্যাসের অভাবে রান্না করতে না পারার কথা জানাচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়েও দেশে গ্যাস সংকট চলতে থাকে। গ্রাহকরা সকালে গ্যাস পেলে বিকালে পান না। বিকালে গ্যাস পেলে সকালে থাকে না, এমন অবস্থা চলছে দীর্ঘ সময়। তবে গত কয়েকদিন ধরে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে একেবারেই গ্যাস পাচ্ছে না গ্রাহক। শিল্প প্রতিষ্ঠানেও কাক্সিক্ষত চাপে গ্যাস নেই।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইদুল হাসান বলেন, তিতাস এলাকায় গড়ে ১৯শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ থাকলে স্বাভাবিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু এখন সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ১৪শ থেকে ১৫শ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে তিতাসকে কম বরাদ্দকৃত গ্যাস দিয়েই গ্রাহকদের সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ানো হলে কার্যত তেমন কিছু করার নেই।

দেশে দৈনিক ৩৮শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও এতদিন ২৭শ থেকে ২৮শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে চলছিল। কিন্তু এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সরবরাহ দুই হাজার ২৬৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে সব শ্রেণির গ্রাহকের মাঝে। বৃষ্টি চলমান থাকায় এবং তাপমাত্রা সহনশীল থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিং নিয়ে অতটা সংকট দেখা দেয়নি। কিন্তু ঢাকার অধিকাংশ আবাসিক এলাকার গ্রাহকরা গ্যাসের অভাবে দিনের বেলায় রান্না করতে না পারার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকায় দিনের বেলায় স্টেশনের সামনে শত শত সিএনজিচালিত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পেই ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চালকরা। আবার দু-একটি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ কম থাকায় কাক্সিক্ষত পরিমাণ গ্যাস মিলছে না। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।

এবিএন সিএনজির মালিক সৈয়দ সাদাত আহমেদ বলেন, জাতীয় গ্রিডে সংকটের কারণে এখন গ্যাসের চাপ নেই সিএনজি স্টেশনগুলোয়। ফলে গ্রাহকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সেটা হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। তবে আমাদের বড় সমস্যা হলো কমিশন প্রদানে ন্যায্য হিসাব করা।

হাজীপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম মৃধা জানান, রাতের সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত গ্যাসের সামান্য চাপ থাকে। কিন্তু দিনের বেলায় একেবারেই চাপ থাকে না। ফলে কমপ্রেসার মেশিনগুলো অলস পড়ে থাকে। গ্যাসের চাপ ৫ পিএসআইর নিচে নামলে আর সিএনজি পাওয়া যায় না। কিন্তু এখন চাপ শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে, এখন দিনে রাতে অধিকাংশ সময়জুড়েই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারহান নূর বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎই সিএনজি স্টেশনগুলো কাক্সিক্ষত চাপে গ্যাস পাচ্ছে না। সিএনজি নিতে গাড়িগুলো দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। কিন্তু গ্যাসের চাপ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার নেই। তিনি বলেন, আমরা আশা করব দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।

ঢাকা জেলা সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি একেবারেই ভালো না। সিএনজির অভাবে গাড়িগুলো ফিলিং স্টেশনে দিনে রাতে লাইন ধরে পড়ে থাকে। এতে দিনের জমা খরচও তোলা যায় না। এ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান বলেন, ১০-১২ দিন আগেও গ্যাসের অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু এখন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ সর্বোত্র খুব খারাপ অবস্থা। গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। মনে হয়, গ্যাস অন্য কোনো দিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এলএনজি টার্মিনাল নষ্ট হওয়ার কথা বলছে।

এদিকে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে গতকাল মাইকিং করে বলা হচ্ছে স্টেশনে গ্যাস নাই। মাইকিং করে গাড়ি চালকদের বলা হচ্ছে সিএনজি স্টেশনে জ¦ালানি তেল আছে, গ্যাস নাই। যারা গ্যাসের জন্য আসছেন অন্য কোথাও চলে যান।

এদিকে তেল গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) দৈনিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বুধবার তিতাসের বিতরণ এলাকায় ১২৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা গেছে যেখানে এক দিন আগেও ১৪২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। একই হারে বাখরাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল, সুন্দরবন, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ এলাকায়ও সরবরাহ কমেছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিনিয়ত দেশি উৎস থেকে গ্যাসের উৎপদন কমছে। অন্যদিকে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন বা অবকাঠামামোগত কারণে সরকার চাইলেই বিদেশ থেকে বেশি পরিমাণে এলএনজি আমদানি করতে পারছে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। যার একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং আরেকটি দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপকে দেওয়া হয়। সামিট গ্রুপকে আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ আওয়ামী লীগ সরকার দিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পেয়ে তাদের কাজ বাতিল করে। এদিকে বর্তমান সরকার একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চেষ্টা করলেও সেটা সময়সাপেক্ষ। অন্তত তিন বছর লাগতে পারে। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহের অবস্থা প্রতিনিয়ত অত্যন্ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। শিল্প কারখানার মালিকরা গ্যাসের সংকটে তাদের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বার বার বিভিন্ন ফোরামে হতাশা প্রকাশ করলেও কার্যত কোনো সমাধান হচ্ছে না।

সর্বশেষ - রাজনীতি