বৃহস্পতিবার , ৬ মার্চ ২০২৫ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্রগ্রাম
  8. জাতীয়
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিনোদন
  15. ব্যাবসা-বাণিজ্য

নেত্রকোণায় ভূয়া প্রকল্প সাজিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
মার্চ ৬, ২০২৫ ৫:১৮ অপরাহ্ণ

জাহিদ হাসান, নেত্রকোণা থেকে  :

নেত্রকোনায় গ্রামীণ অবকাঠাম উন্নয়ন সংস্কার ও নির্মাণ (টিআর, কাবিখা ও কাবিটা) নির্বাচনী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কখনো শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার, কখনো শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদ কখনো বা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান পাঠাগারের কাল্পনিক নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোণা-২ আসনের সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু’র সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দদানকৃত এই টাকা উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশে আওয়ামীলীগের একশ্রেণীর নেতা-কর্মী উঠিয়ে নেয় বলে অভিযোগে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পূর্ণবাসন শাখা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার বিভিন্ন নথি-পত্র পর্যারৈাচনায় জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা নির্বাচনী এলাকায় ২০১০-২০১১অর্থ বছরসহ২০২১-২০২২, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার, নির্মাণ, টি আর, কাবিখা, কাবিতা প্রভৃতি কর্মসূচির আওতায় বারহাট্টা উপজেলার বারহাট্টা শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়ন’র নামে আওয়ামী লীগ স্থানীয় নেতা হাবিবুর রহমান পিতা উমর উদ্দীন আহমেদ ছোট কৈলাটী ৩০০০০০/- (তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন, বাউশি শেখ রাসেল পাঠাগার নির্মান ও বাউসি শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণের নামে (২০২১-২০২২ অর্থ বছর ) ২০০০০০/ + ২০০০০০/- = ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন শামছুল হক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১ং বাউসি ইউনিয়ন শাখা। এভাবে ২০১০ থেকে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের দুধকুরা বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়ন’র নামে (২০২২-২০২৩ অর্থবছর) ২৫০০০০/- দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজমল হোসেন খান, পিতামৃত মাফিজ উদ্দীন খান, গ্রাম দুধকুড়া বারহাট্্রা, বারহাট্টা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের মাঠে (২০২২-২০২৩ অর্থবছর) মাটি দ্বারা সংস্কারের নামে, (২০২২-২০২৩ অর্থবছর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী আব্দুল ওয়াহেদেও ছেলে কাজী সাজ্জাদ হোসেন ২০০০০০/- দুই লাখ টাকা উত্তোলন করেন, ফকিরের বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগারের উন্নয়নের নামে (২০২৩-২০২৪ অর্থ বছর) ফকিরের বাজারের রাজ বল্লভ সাহার পুত্র প্রকল্প সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা দিলীপ কুমার সাহা, আসমা ইউনিয়ন মনাষ বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়ন’র নামে উজান গাঁও গ্রামের মৃত মো: আনফর আলীর পুত্র স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামছুল হক ৩০০০০০/- (তিন লাখ টাকা) টাকা উত্তোলন করে অন্যায়ভাবে লাভবান হন, বারহাট্রা শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে (২০২৩-২০২৪ অর্থ বছর) ৩০০০০০/- টাকা নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত মোহামদ শাহের পুত্র শাহ দীন মুহামদ, সিংধা ইউনিয়নের শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে (২০২৩-২০২৪ অর্থ বছর) উত্তোলন করেন প্রকল্প সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ন কবীর, সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণের নামে ৩০০০০০/ ( তিন লক্ষ টাকা) টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এদিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার লাইট বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে (২০২২-২০২৩ অর্থবছর) ২০০০০০/-(দুই লাখ) টাকা চরপাড়া চল্লিশা এলাকার শেখ আতাহার আলীর পুত্র প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মজিবুর রহমান, উত্তর বিষিউড়া শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে (২০২০-২০২১ অর্থবছর) ১০০০০০/- (এক লাখ টাকা) টাকা উত্তোলন করেন উত্তর বিষিউড়া চল্লিশার মৃত ইজ্জত অলীর পুত্র প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন, ১. সাকুয়া বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে (আর্থিক বছর ২০২০-২১-২০২৩) সাকুয়া গ্রামের মৃত অধির চন্দ্র সরকারের পুত্র প্রকল্প সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা অজিত সরকার উত্তোলন করেন ২৫০০০০/-(দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ), দ্বিতীয়বার এই পাঠাগারের নামে কুনিয়া গ্রামের মৃত মৌজালী খানের পুুত্র প্রকল্প কমিটির সভাপতি সেজে আরো ১০০০০০/- (এক লাখ টাকা ) টাকা, চল্লিশা বাজার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঠাগার’র উন্নয়নের নামে চল্লিশা এলাকার মরহুম তালে হোসেনের পুত্র প্রকল্প সভাপতি আ: জব্বার উত্তোলন করেন ৩০০০০০/ (তিন লক্ষ টাকা) টাকা, এবং চল্লিশা বাজার শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণের নামে উত্তোলন করেন চল্লিশার মৃত সময় আলীর ছেলে আলী আকবর আহাম্মদ ৩০০০০০/ (তিন লক্ষ) টাকা, ঠাকুরাকোণা ইউনিয়ন শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার সংস্কারের নামে দূর্গাশ্রম গ্রামের আলাউদ্দীন মাষ্টারের ছেলে প্রকল্প সভাপতি মো: মাসুদ হাসান জামান উত্তোলন করেন ১৫০০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) টাকা, পঞ্চননপুর শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে পঞ্চননপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র প্রকল্প সভাপতি শহীদুল হক উত্তোলন করেন ৫০০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) টাকা, রৌহা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে বড়গাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের পুত্র প্রকল্প সভাপতি আলামীন খান উত্তোলন করেন ৫০০০০/- ( পঞ্চাশ হাজার) টাকা, কুনিয়া শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে কুনিয়া গ্রামের মোজালী খানের ছেলে আ: হাসিম উত্তোলন করেন ১৫০০০০/-, (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ) টাকা, কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়নের শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নের নামে ত্রিশকাহনিয়া গ্রমের মৃত আব্দুল মোতালিবের পুত্র বাশার উত্তোলন করেন ৩০০০০০/- (তিন লক্ষ টাকা) ও রৌহা ইউনিয়নের কুনিয়া শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদের ঘর মেরামতের নামে ২০০০০০/- টাকা উঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্থিত্ব খোঁজে পাওয়া যায় নাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগন পারস্পরিক যোগসাজশে এই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে সৃজন করা ভূয়া প্রকল্পের বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ ও ছাড় দিয়েছেন। তারা প্রকল্পের স্বরজমিনে পরিদর্শন করে অর্থ ছাড়ের সরকারি বিধান অনুসরণ করেন নাই বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

জানা যায়, প্রকল্পের কমিটির (পিআইসি) সাথে সংশ্লিষ্টদের সকলেই আওয়ামীলীগের নেতা বা কর্মী। ৫ই আগষ্টের গণ-অভ্যূত্থানের পর সারা দেশের ন্যায় নেত্রকোণা-বারহাট্টা এলাকার আওয়ামীলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীও আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে অভিযুক্তদের অনেকের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা বলা সম্ভব হয় নাই। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আজমল হোসেন খান পিতামৃত মাফিজ উদ্দীন খান গ্রাম দুধকুড়া বারহাট্টা, শামছুল হক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১ং বাউসি ইউনিয়ন শাখা বলেন, সকল কার্যক্রম ২০১০ থেকে চালিয়ে আসছিলাম। পরে আন্দোলন সংগ্রামের সময় বিএনপির লোকজন সব ভেঙ্গে নিয়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে বারহাট্টা উপজেলার ডেমুড়া গ্রামের মরহুম আব্দুর রশিদ তালুকদারের পুত্র মো: কামাল মিয়া তালুকদার (মুঠোফোন-০১৯১৬৪২৬২৮৬, ০১৭৯৫৮৪৭৩৪০) জনস্বার্থ বিবেচনায় গতবছরের ৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাসের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়িদের বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

কামাল মিয়া তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি আরো বলেন, ২০২৩-৩৪ অর্থবছর ফারজানা আক্তার ববি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন। জেনেশুনেই তিনি ভূয়া প্রকল্পের অর্থ ছাড় দিয়েছেন। এ রকম জঘন্নতম অপরাধ সমাজের কেহ মেনে নিতে পারে না। আমি অভিযোগ দাখিলের ২ মাস পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই। গণ-অভ্যূত্থান ও এত ওলট-পালটের পরেও প্রশাসনের এই কার্যকলাপ অব্যাহত থাকা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, এমন প্রকল্পের আর পূণরাবৃত্তি হবে না। সরেজমিনে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ - জেলার খবর