রবিবার , ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেকারত্বের কারখানা বানানো যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিবেদক
Newsdesk
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেকারত্বের কারখানা বানানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ডিগ্রি উৎপাদনের জায়গা হিসেবে না দেখে কর্মসংস্থানমুখী ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।’

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ঘাটতি রয়েছে। শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, বরং এগুলোকে গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উন্নত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানোন্নয়নের কেন্দ্র হবে নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আমরা কি সত্যিকারের শিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরি করছি, নাকি শুধু ডিগ্রি দিচ্ছি—এই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশই কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে বেকারত্বে পড়ছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা সরাসরি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ জন্য শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ (ইন্ডাস্ট্রি–অ্যাকাডেমিয়া লিংক) আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ এসএসসি ও সমমান এবং ২০ লাখ এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে মূল্যবান সময় হারাচ্ছে। শুধু ভর্তি পরীক্ষার কারণেই জাতির কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ বছর সময় নষ্ট হচ্ছে। কখন ভর্তি শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে- এ বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্ব কি সংশ্লিষ্ট সবার নয়?

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু কারিকুলাম বা সিলেবাস শেষ করলেই হবে না। কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করা যায়, সে ভাবনা সবার মধ্যে থাকতে হবে। দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের গুজবে সরকার তো বিব্রত হবেই। তবে গুজবের কারণে ছাত্ররা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা কর‍তে হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাই। আমরা সচেতন আছি। গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার পরও যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এসময় ইউজিসির অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি সেলের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সর্বশেষ - রাজনীতি