আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বীপটি তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মিসর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পূর্ব লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তোব্রুক থেকে ৬০ যাত্রী নিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা কিছুদূর যাওয়ার পর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানান, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর বেশিরভাগ যাত্রী সাগরের স্রোতে ভেসে যান। তবে মাত্র ১০ যাত্রী সাঁতরে নিকটবর্তী বারদা দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হন, যাদের পরবর্তীতে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীরা দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, নৌকাটিতে ৫১ জন অভিবাসী ছিলেন। জরাজীর্ণ নৌকায় অত্যন্ত কঠিন মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন আটকে থাকায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত মাসে লিবিয়ার উপকূলে একটি অভিবাসনপ্রত্যাশী যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ায় ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।
আইওএম-এর তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের সাড়ে চার মাসেই এই রুটে ৮ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারীদের সহায়তায় বিপদসঙ্কুল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় লিবিয়া উপকূল এখন অন্যতম প্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া সাব-সাহারা আফ্রিকার হাজার হাজার অভিবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। নিজ দেশে সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে তারা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

















