জাফর আলম, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, সীমান্ত দিয়ে মাদকপাচার, চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ বন্ধে উত্থাপিত চার দফা দাবিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন কলেজছাত্র সাইফুল ইসলাম জিহাদী। এরআগে সোমবার (২০ জুলাই) তিনি অনশন শুরু করেছিলেন। সাইফুল ইসলাম জিহাদী বান্দারবান সরকারি কলেজের ছাত্র এবং টেকনাফ উপজেলা বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার বশির আহমদের ছেলে।এর আগে টেকনাফের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপহরণবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জিহাদীর আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ (ডুসাট)।
সংগঠনটির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, টেকনাফ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ধারাবাহিক অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, সীমান্তপথে মাদক কারবার, চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো অপরাধে সাধারণ মানুষের জীবন চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার অবসান এবং নিরাপদ টেকনাফ প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ন্যায্য ও যৌক্তিক উল্লেখ করে ডুসাট এর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি অথবা কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে দাবি গ্রহণ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরবর্তীতে এমপি শাহজাহান চৌধুরী দাবিপত্রে স্বাক্ষর করে দাবি গ্রহণ করলে অনশন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন সাইফুল ইসলাম জিহাদী। অনশন চলাকালে ডুসাট শিক্ষার্থীটির শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘ সময় অনশনের কারণে তার কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর দায়ভার বহন করতে হবে।
চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় পর্যায়ে দুদক, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করে অপহরণকারী ও মুক্তিপণ সিন্ডিকেটের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা।
গত চার বছরে টেকনাফে অপহরণের শিকার নিহত ব্যক্তি ও মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। ডুসাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উত্থাপিত চার দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তাদের সংহতি ও দাবি অব্যাহত রয়েছে।

















