মিজানুর রহমান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মাহফুজা আক্তার (৭) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহফুজা তারাকান্দি গ্রামের মো. ইদ্রিস আলী মোল্লার মেয়ে এবং স্থানীয় রাখালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনায় নিহতের পরিবার পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহফুজা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের দাবি, একই গ্রামের বাবলু শেখের নাতনি জান্নাতি (১০) কয়েক দফায় মাহফুজার খোঁজ নিতে তাদের বাড়িতে আসে। একপর্যায়ে সে মাহফুজাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জান্নাতি আবার এসে মাহফুজার বাবাকে জানায়, মাহফুজা তার এক বান্ধবীর বাড়িতে গেছে।
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও মাহফুজা বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা এলাকায় মাইকিং করে এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে গ্রামের বাবলু শেখের ভিটায় শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের বাবা মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “বাড়ির পাশের সরকারি রেলওয়ের জায়গায় ঘাস লাগানো নিয়ে বাবলু শেখের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবলু শেখের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবলু শেখের স্ত্রী জরিনা বেগম (৫০), মেয়ে ফাতেমা (২২) ও স্বজন সূর্যকে (১৪) থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


















