Saturday , 8 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

পটুয়াখালীতে তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্নের খামারে পৈশাচিক তাণ্ডব: ফলন্ত খেজুর বাগান কুপিয়ে ধ্বংস, গ্রেফতার ১

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 8, 2026 1:18 am

কলাপাড়া  প্রতিনিধি (পটুয়াখালী) উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে গড়ে তুলেছিলেন এক সবুজ সম্ভাবনার রাজ্য। কায়িক শ্রম আর আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সমন্বয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মরুময় মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি খেজুরের সফল আবাদ করে যখন তিনি আত্মনির্ভরশীলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক বর্বরোচিত হিংস্রতায় তছনছ হয়ে গেল প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলামের সেই বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। পূর্বশত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে বছরের পর বছর ধরে ঘাম ঝরানো শ্রমে গড়ে তোলা সমৃদ্ধ কৃষি খামার।
নৃশংস ও ন্যক্কারজনক এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য ঘটনার পর ভুক্তভোগী উদ্যোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকায় মোজাহিদুলের ‘কৃষি ফার্মে’ পরিকল্পিতভাবে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। দুষ্কৃতকারীরা খামারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফলনধরা ১০টি প্রাপ্তবয়স্ক সৌদি খেজুর গাছ মাঝ বরাবর কুপিয়ে নিঃশেষ করে দেয়। একই সাথে কেটে নিয়ে যাওয়া হয় খেজুরে ভরপুর তিনটি ছড়া। শুধু খেজুরেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা; বাগানের ফলন্ত ১০টি কলাগাছসহ বেশ কিছু আম, লংগান, লেবু ও মালবেরি গাছ কেটে চুরমার করে ফেলা হয়। সংকটের আবর্তে পড়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “দেহে আঘাত করলে হয়তো সেই ক্ষত সময়ের ব্যবধানে শুকিয়ে যেত। কিন্তু আমার জীবিকার মূল স্তম্ভটি এভাবে ভেঙে দিয়ে আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হলো।” বাগান ও নিজ বাসস্থানের আশপাশে গেলে তাঁকে এখনও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার পর পরই মোজাহিদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানান। পরবর্তীতে কলাপাড়া থানায় দায়েরকৃত এজাহারে বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকার মো. রবিউলকে (৩২) একমাত্র আসামি করা হয়। এজাহারে আনুমানিক ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন এবং জীবননাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর কলাপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামিন পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী উদ্যোক্তার কোনো অনিষ্ট হলে তার সমুদয় দায়ভার আসামির পরিবার বহন করবে বলে উল্লেখ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে দুই ভাই যৌথভাবে ২৭ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই সৌদি খেজুরের বাগান গড়ে তোলেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও পরিচর্যার পর ২০২২ সাল থেকে গাছে ফলন আসতে শুরু করে এবং ২০২৪ সাল থেকে তারা খেজুরের চারা বাজারজাতকরণ শুরু করেন। সফল খামারি হিসেবে মোজাহিদুলকে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ৭০টি পরিণত খেজুর গাছ এবং ২০০টিরও বেশি চারা রোপণকৃত অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান সরেজমিন পরিদর্শন শেষে কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাবহ ও অমানবিক। স্পষ্টতই এক উদীয়মান উদ্যোক্তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। কৃষি অর্থনীতিতে এটি একটি বড় আঘাত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন চক্রবর্তী জানান, এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার আইনগত বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বছরের পর বছর সাধনা ও মূলধন বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা এই কৃষি খামার এক লহমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মোজাহিদুলের পুনরুজ্জীবন নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা না গেলে নতুন প্রজন্মে আত্মকর্মসংস্থানের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত