অপরাধচিত্র ডেস্ক: দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বিদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পাঠ্যপুস্তকে শহীদদের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ফ্যাসিবাদ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গণহত্যাকারীরা দেশে ফিরলেই তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

২৩ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’-এর দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল গুম, খুন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে দেশের মানুষ তা কখনোই ক্ষমা করবে না।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ সময় পাঠ্যপুস্তকে জুলাই শহীদদের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং শহীদদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণেরও দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।
রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তীব্র জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, অনেক মানুষ বাসাবাড়িতে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরির কারণেই আজ এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ গণভোটে সমর্থন দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি জুলাইয়ের গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত আমীর স্পষ্ট করেন, সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা জামায়াত অব্যাহত রাখবে।বাংলাদেশ সংবাদ
জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যদি জাতীয় নির্বাচনের মতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে সরকারকে এর কঠোর মাশুল দিতে হবে।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শিগগিরই আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমানভাবে এগোচ্ছে না। বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি দূর করে দ্রুত খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনতিবিলম্বে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান তিনি।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আ. বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নানসহ জুলাই শহীদদের স্বজনবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও জিয়াউল হাসান, মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এবং নাসির উদ্দীনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।Politics

















