রবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

কক্সবাজারে অপ্রতিরোধ্য পাহাড় কাটা : অসাধু রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে দখল হচ্ছে বনভূমি

প্রতিবেদক
Newsdesk
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

বিশেষ সংবাদদাতা :

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাজারকুল রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্বিচারে চলছে গাছ নিধন ও বনভূমি দখল। সেই সাথে প্রকাশ্যে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটছে । এছাড়াও বনভুমি বিক্রি ও পাহাড় কেটে পাঁকা দালান নির্মাণে সহযোগীতা করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছে খোদ রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান। রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি বিটের কালের দোকান এলাকায় সিরাজুল ইসলামের বাড়ির পিছনে একের পর এক পাহাড় কাটা চললেও নিরব রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান।

রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন চার বিট রাজারকুল, আপাররেজু, দাড়িয়ারদীঘি, পাগলিরবিল বিট। রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন এলাকাগুলোতে নির্বিচারে পাহাড় কাটা,বনভুমি বিক্রি ও মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের ঘটনা রীতিমতো পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এতে লাভবান হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান, দাড়িয়ারদিঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ও আপাররেজু বিট কর্মকর্তা আল ফুয়াদ। এদিকে, রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা গনের যোগসাজশে দিন-রাত গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ।রীতিমত রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা গনের নিরব ভুমিকার কারণে কাঠ চোরেরা আস্কারা পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে গাছ নিধনে মেতে উঠেছে। আপাররেজু বনবিটের ১০ নং পাহাড় নামে পরিচিত বিশাল বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই পাহাড়ের মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নীরবতা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিট কর্মকর্তা ফুয়াদের যোগসাজশে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, একই রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি বিট এলাকায় থাকা পাইন বাগানও রক্ষা পাচ্ছে না। পাইন বাগান এলাকায় মহিষের রাস্তা নামে পরিচিত, আলী হেডম্যানের বাড়ি যাওয়ার পথে অবই পাশে পাহাড় কাটা চলমান রয়েছে, সেখানে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে একের পর এক দালান নির্মাণ করা হচ্ছে। রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বন অপরাধ গুলো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

স্থানীয় পরিবেশ প্রেমীরা জানান, সেখানে সবুজ প্রাকৃতিক বিভিন্ন মূল্যবান গাছপালা এবং পাহাড় কেটে চাষের জমি করেছে।এভাবে পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল করা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে পরিবেশ প্রেমিরা মনে করেন।এভাবে পাহাড় এবং বনের গাছ কাটলে খুব অচিরেই কক্সবাজারের বনভুমি ধ্বংস হবে করেন সচেতন মহলের ধারণা। রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন বনভূমিতে স্হাপিত প্রতিটি পানের বরজ মালিকদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা যায় রেঞ্জ কর্মকর্তার পকেটে।নতুন করে কেউ যদি পানের বরজ করতে চাই তাকেও গুনতে হয় মোটা টাকা,যদি না দেয়া হয় তাহলে চলে উচ্ছেদের নামে তাণ্ডব। মূল কথা ওই রেঞ্জের বনভূমিতে কোনপ্রকার স্হাপনা করতে গেলে কর্তা বাবুকে দিতে মোটা অংকের টাকা। দাড়িয়ারদীঘি বন বিটে নির্বিচারে বনভূমি দখল, বিক্রি, পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি নির্মাণ, বনের গাছ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামান যোগদানের পর তাঁর সাথে বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠে শীর্ষ পাহাড়খেকোদের সাথে। নতুন করে আর কোন মামলা না হওয়ার বিশেষ গোপন চুক্তিতে পাহাড় কাটার ‘লাইন’ দেন বনভূমি অবৈধ দখলদার সিন্ডিকেটকে। রাজারকুল রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে নিধন করা মুল্যবান গাছগুলো পাচার করে যাচ্ছে।এতে করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ দিনদিন শুন্য হয়ে ন্যাড়া ভুমিতে পরিণত হচ্ছে।চোরাই কাঠ পাচারকারী চক্র বনের মূল্যবান গাছ কেটে অন্যত্র পাচার করে দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা ব্যাপারে নিরব ভুমিকা পালন করছেন।বনের গাছ চুরি অব্যাহত থাকায় সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দিনদিন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বনাঞ্চলের মুল্যবান গাছ কেটে পাচার সহজতর এবং দ্রুত অন্যত্র পাচারের জন্য সংরক্ষিত বনের ভেতর গাছ ও পাহাড় কাটছে কাঠ পাচারকারী ও বনভূমি দখলদাররা। কাঠ চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সাথে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কাঠ ও পাহাড়ি পাথর পাচার করে পকেট ভারি করছে স্থানীয় বনের তিন কর্তা। নির্বিঘ্নে ডাম্পার যোগে দিনে ও রাতে কাঠ পাচার করা হচ্ছে বনের মূল্যবান কাঠ। অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দালান নির্মাণে সহযোগীতাও করেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বনজায়গীরদার (ভিলেজার) জানান, রেঞ্জে প্রতিনিয়ত গাছ নিধন করেছে কাঠ চোরেরা। তাদের দাবী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা এসব এলাকা পরিদর্শন করলে শতশত সদ্যকাটা গাছের মুথা পাওয়া যাবে।রেঞ্জ কর্মকর্তা মাঝে মধ্যে টহলে গিয়ে গাছ নিধন দৃশ্য দেখেও এড়িয়ে যান।কারণ হিসেবে তারা বলেন, প্রতিটি নিধন হওয়া গাছের টাকা পান রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তারা। অথচ উক্ত বনাঞ্চলে এসব গাছ বড় করতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।গাছ বড় করতে লেগেছে দীর্ঘ সময়।অথচ বনের রক্ষক রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তারা কাঠ চোরদের সাথে আতাত করে এসব গাছ অতিঅল্প সময়ে মোটা টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। কাঠ চোরকারবারীদের সাথে তার রয়েছে দহরম মহরম সম্পর্ক। ফলে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা যোগসাজসে পাচার করে দিচ্ছে বনের মূল্যবান কাঠ। এব্যাপারে রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয় অস্বীকার করেন।

 

 

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত