নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঈদযাত্রায় মার্চের ১৪ থেকে ২৮—এই ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও এক হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হতাহত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে তৈরি করা সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদযাত্রায় ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এতে আরও বলা হয়, ১৫ দিনে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নৌ-পথে আটটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও তিনজন নিখোঁজ হন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহনের মধ্যে ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ও ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে পথচারী চাপা পড়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে ঘটে।
মোজাম্মেল হক বলেন, এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুই হাজার ১৭৮ জন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন।
সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপে প্রস্তুতি সভাগুলোতে কোনো যাত্রী বা নাগরিক প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব সিন্ডিকেটের প্রভাবে ঈদে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে।

















