নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুব দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড কার্যকর হয়নি। বর্তমানে নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ছয়টি রিট/সিভিল পিটিশন চলমান আছে।
আজ রোববার সংসদের বৈঠকে জামায়াতের সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব কথা বলেন। এর আগে, বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
বিএনপি দলীয় সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগারের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করিয়া প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করিবার জন্য আইনটি সংশোধন করার কার্যক্রম চলমান আছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পেশাগত কাজ করিতে অক্ষম বা অসমর্থ, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে অসমর্থ সাংবাদিকদের এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিবার কার্যক্রম চলমান আছে।
চাঁদপুর-২ আসনের সদস্য জালাল উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল চারটি। ৫৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুমোদন পেলেও পূর্ণ সম্প্রচারে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৩৭টি। নতুন কোনো টিভি চ্যানেল অনুমোদনের অপেক্ষাধীন নেই। ভবিষ্যতে নতুন কোনো টিভি চ্যানেল অনুমোদনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামায়াতের সদস্য আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশি্চতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না
জামায়াতের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, বর্তমানে বিশ্বে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সবগুলো ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে আছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতি মোকাবিলায় জিটুজি চুক্তির আওতায় সাবিক, সৌদি আরব হতে অতিরিক্ত ২ লাখ মেট্রিক টন ও ফার্টিগ্রোব, ইউএই হতে অতিরিক্ত এক লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে পহেলা মে হতে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড এ গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে সার কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে। জিটুজি পদ্ধতিতে/টেন্ডারের মাধ্যমে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি ও কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও টিএসপি সার কারখানা ও ডিএপি সার কারখানার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল রক ফসফেট, ফসফরিক এসিড ও সালফার এর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে টেন্ডারের পাশাপাশি উৎপাদনকারী দেশ মরক্কো, জর্ডান, ওমান, ইউএই, চীন ও মালয়েশিয়া হতে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


















