নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুলিশ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত ছবি, পোস্ট, মন্তব্য বা তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের এই নির্দেশনা দেন তিনি।
নির্বাচন উপলক্ষে সিআইডির মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, পুলিশকে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সিআইডির সকল পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ইতিমধ্যে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করবেন। সকলকে নির্বাচন-সংক্রান্তে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুসমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে নিজের খাবারসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে। কোনো প্রকার খাবার বা অন্য কোনো সহযোগিতা কারও কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনোভাবে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।’
সিআইডির প্রধান পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, দায়িত্বরত কোনো পুলিশ সদস্য নির্বাচন-সংক্রান্ত ছবি, পোস্ট, মন্তব্য বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তোলা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
ব্রিফিং শেষে সিআইডি প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি যে আপনাদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে আমরা একটি অসাধারণ সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হব। এটি হবে আমাদের সকলের জন্য গৌরবের বিষয়।’
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ এখন প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা, ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র রায় পেতে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার।


















