Sunday , 15 June 2025 |
শিরোনাম:

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস নিজস্ব প্রতিবেদক অপরাধচিত্র রিপোর্ট: হামলায় আহত হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে থেকে পুলিশের তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁদের গাড়িবহরে হামলা হয়। ঘটনার পর তাঁরা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার মুখে সারজিস শহরের সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও হামলার মুখে দ্রুত সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে যান। কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টায় পুলিশ প্রটোকলে তিনি হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। হবিগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের ভিতরে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের ভিতরে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাঁদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক নজির। হ‌বিগঞ্জে এন‌সি‌পির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা‌র প্রতিবাদে সিলেটে মশাল ও বিক্ষোভ মি‌ছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টার পর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। হ‌বিগঞ্জে এন‌সি‌পির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা‌র প্রতিবাদে সিলেটে মশাল ও বিক্ষোভ মি‌ছিল। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতও দাবি করেন, হামলায় সাংবাদিক ও দলের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সে বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে রাতে সিলেট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। রাত পৌনে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিক্ষোভ হচ্ছিল রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ের সামনে।

হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িতে হামলা

অপরাধচিত্র জুলাই ২০২৬ সংখ্যা এখন বাজারে

ঢাকাসহ সারা দেশে ৮৮ দিনের অভিযানে ১ লাখ ৪১ হাজার গ্রেপ্তার

জিপিএস না থাকলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন-ফিটনেস, ১ আগস্ট থেকে কার্যকর

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তার আশ্বাস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চুয়াডাঙ্গা

১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনধারী:  সচিবালয় অভিমুখে যাত্রায় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

প্রতিবেদক
Newsdesk
June 15, 2025 4:59 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তিন দফা দাবি আদায়ে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনধারী শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করলে বাধা দেয় পুলিশ। এসময় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা সচিবালয় এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে তা মানতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের দিকে ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

রোববার (১৫ জুন) প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সচিবালয়ের ৫ নম্বর ফটকে এ ঘটনা ঘটে। সকালে শিক্ষকরা ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে তারা সচিবালয় অভিমুখে রওয়ানা হন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরেজমিনে আন্দোলনকারীদের প্রেসক্লাব মোড়ে অবস্থান চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া এ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সচিবালয় অভিমুখে তাদের লংমার্চ কর্মসূচি ছিল। সকাল থেকেই তারা কর্মসূচি পালন করেন প্রেস ক্লাবের সামনে। এরপর হঠাৎ দুপুর দেড়টায় তারা এখানে আসেন। আমি জেনেছি যে, প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছিলেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭তম নিবন্ধনধারীরা।

তিনি আরও বলেন, ওনাদের পাঁচজনকে সচিবালয়ে পাঠিয়েছিলাম। যেন সচিবালয়ের গিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে তাদের বিষয়গুলোর আপডেট জেনে আসুক। তো তাদের এই পাঁচজন গেছে। যাওয়ার পরে ওই পাঁচজন মনে হয় ওখানে তারা এরকম বলছেন যে, এখানে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওখান থেকে যাবেন না তারা বা এর বাইরে আর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তারা আবার লিংক রোডে চলে আসেন, লিংক রোডে যথারীতি আমাদের একটা ব্যারিকেড আছে। ব্যারিকেডটা যখন ভাঙার চেষ্টা করে তখন পুলিশ প্রথমে বাধা দেয়, ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু এরপরও তারা মানছিল না, একটু বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল।

মাসুদ আলম বলেন, সচিবালয়ে তো আমরা আসলে যেতেও দিতে পারি না। ওখানে তো ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের মনে হয় এক-দুই রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এতে আমাদের দু-একজন পুলিশ সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা যে দাবিগুলো তুলেছন সেগুলো হলো :
১. ১৭তম ব্যাচের নিবন্ধিত প্রার্থীদের জন্য আপিল বিভাগের রায় অনুসারে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অন্তত একবার আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।

২. ১৭তম ব্যাচের বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।

৩. আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএ’র সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস নিজস্ব প্রতিবেদক অপরাধচিত্র রিপোর্ট: হামলায় আহত হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে থেকে পুলিশের তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁদের গাড়িবহরে হামলা হয়। ঘটনার পর তাঁরা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার মুখে সারজিস শহরের সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও হামলার মুখে দ্রুত সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে যান। কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টায় পুলিশ প্রটোকলে তিনি হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। হবিগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের ভিতরে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের ভিতরে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাঁদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক নজির। হ‌বিগঞ্জে এন‌সি‌পির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা‌র প্রতিবাদে সিলেটে মশাল ও বিক্ষোভ মি‌ছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টার পর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। হ‌বিগঞ্জে এন‌সি‌পির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা‌র প্রতিবাদে সিলেটে মশাল ও বিক্ষোভ মি‌ছিল। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতও দাবি করেন, হামলায় সাংবাদিক ও দলের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সে বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে রাতে সিলেট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। রাত পৌনে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিক্ষোভ হচ্ছিল রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ের সামনে।
হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িতে হামলা
অপরাধচিত্র জুলাই ২০২৬ সংখ্যা এখন বাজারে
ঢাকাসহ সারা দেশে ৮৮ দিনের অভিযানে ১ লাখ ৪১ হাজার গ্রেপ্তার

সর্বশেষ - রাজনীতি