বৃহস্পতিবার , ১৩ মার্চ ২০২৫ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্রগ্রাম
  8. জাতীয়
  9. জেলার খবর
  10. ঢাকা
  11. তথ্য-প্রযুক্তি
  12. প্রবাসের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিনোদন
  15. ব্যাবসা-বাণিজ্য

অঢেল সম্পদের মালিক ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল

প্রতিবেদক
Newsdesk
মার্চ ১৩, ২০২৫ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেবা প্রার্থীদের দিনের পর দিন হয়রানির সাথে গুনতে হচ্ছে ঘুষের টাকা। ইউনিয়ন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকতা জয়নাল আবেদীন যোগদানের পর থেকেই রামরাজত্ব চলছে এ অফিসে। পদে পদে বাড়তি টাকা না দিলে কোনো সেবাই মিলছে না বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে মহেশখালীর কেরুনতলী ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকে তার অবৈধ সম্পদ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলায় যেসব ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয় কালারমার ছড়া ও কেরুনতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনস্থ এলাকায়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে এলএ মামলা ০৪/২০১৩-১৪ মূলে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে জয়নাল কালারমারছড়া ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেন। এরপর শুরু হয় জয়নালের অবৈধ সম্পদ অর্জনের পালা। ২০১৯-২০২০ করবর্ষের তার আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন, জয়নাল নিজের নামে ১৪টি দলিল ও স্ত্রী রোকেয়া বেগমের নামে ৩টি দলিলমূলে কৃষি জমি ক্রয় করেন। জানা যায়, বাহারছড়া ভূমি অফিসে যোগদানের পর খাস জমি দখলও কৃষি জমি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা ভরাট করার ফলেও তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেন,নিরব ভুমিকা পালনে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে বানিজ্য করার অভিযোগ করেন। সব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা তার কাজ বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব পেশকারপাড়ায় তার নিজের বর্তমান বসতবাড়িতে ৪ তলা বাড়িও নির্মাণ করেছেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন দুই কোটি টাকায় ২০ শতক জমি ক্রয় করেন। চেইন্দা মৌজায় কাইমারঘোনা মসজিদের পাশে ২০শতক ভাড়া ঘরসহ জমি ক্রয় করেছেন।

অন্যদিকে জয়নালকে যেসব ক্ষতিপূরণ পাওয়া ব্যক্তি ফাইল দেন তাদের বকেয়া থাকা জমির খাজনার সুদ মওকুফ করে দিতেন। আর যারা তাকে ফাইল দেন না, তাদের কাছ থেকে সুদসহ বহুগুণ খাজনা আদায় করেন। তাছাড়া জয়নালের স্ত্রীর নামে ন্যাশনাল ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫৪২ টাকা অবৈধ লেনদেন জমা হয় বলে ওই সময় দুদকের অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, বাহারছড়ায় অনলাইনে দাখিলা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে অজুহাত দেখিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয় উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন। আর জয়নালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির জায়গা হলো জমির মিউটেশন করা। জমি ক্রয় করার পরে প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড (মিউটিশন) করতে হয়। সরকারি ধার্যকে তোয়াক্কা না করে উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে এটা-ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে বলে দশ হাজার থেকে লাখ টাকা চুক্তি করেন জমির মিউটিশনের জন্যে। তখন জমির মালিকগণ নিরুপায় হয়ে জয়নালের ফাঁদে পা দিয়ে হাজার বা লাখ টাকা গচ্চা দেয়। আবার অনেক জমির মিউটিশনের জন্যে সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাদ দিয়ে দিলে জয়নাল জমির মালিকপক্ষ থেকে মিউটিশন করিয়ে দিবে বলে যে টাকা নেয় তা আর ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে ঘুরাতে থাকে। যদি কোনো জমির পার্টি একটু প্রভাবশালী হয় তাদের চুক্তির টাকা থেকে অর্ধেক টাকা ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সঠিক কাগজপত্র ও ঘুষের চুক্তির টাকা দেয়ার পরও দুই থেকে ছয় মাস ও ঘুরায় জমির মালিকদেরকে বাহারছড়া উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না। নামজারির জন্য ১০ হাজার থেকে মোটা অঙ্ক আদায় করা হয় উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেওয়ার কথা বলে।সূত্র জানায়, গত ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকাসহ গ্রেপ্তার হন কক্সবাজার এলএ শাখার সার্ভেয়ার ওয়াশিম খান। ওই ঘটনায় ১০ মার্চ ওই সময়ের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারি পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে সার্ভেয়র মো. ওয়াসিম খানকে প্রধান আসামী করে মামলা করেন। এরপর গত বছরের ২২ জুলাই কক্সবাজারের শীর্ষ দালাল সেলিম উল্লাহ এবং ৩ আগস্ট দালাল সালাউদ্দিন ও কামরুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এলএ মামলার মূল নথি, ঘুষ লেনদেনের হিসাব লেখা রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়। পরে এসব নথি থেকে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত হন দুদক। পরে চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ লেনদেনে উঠে আসে প্রায় দেড়শ দালালের নাম। তাদের মাধ্যমে কমিশনে জমির ক্ষতিপূরণ ছাড় দিয়েছেন এলএ শাখার কর্মকর্তারা। আসামিদের স্বীকারোক্তিতে ক্ষতিপূরণ লেনদেন কাজে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ৫৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে এসেছিল। তন্মধ্যে ৩০জন সার্ভেয়র, ৮ জন কানুনগো, ১০ জন অফিস সহকারী, ৩ জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৫ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) নাম। জয়নাল সরকারি কর্মচারী হয়েও নিজের নামে তার কর্মস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আমমোক্তারনামা নিয়ে টাকা উত্তোলন করে । এছাড়া কক্সবাজারে বিভিন্ন ব্যক্তির একাউন্টে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা হতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চেক ব্যাংকে নগদায়ন হলে কমিশনের ৩০-৫০শতাংশ টাকা উত্তোলন করেন জয়নালের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম ও আবুল হাসেম। জয়নাল নিজেও ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করে নিজের কিংবা স্ত্রীর একাউন্টে জমা করে।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

উল্লেখ্য যে, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নালের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২১ সালে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে আটক করেছিল

সর্বশেষ - জেলার খবর