বরিশাল প্রতিনিধি: জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, জালিয়াতি বিয়ে এবং লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মোঃ আবিদুর রহমান। তিনি বর্তমানে বরগুনার পাথরঘাটায় ইনসেপ্টার মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত। অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলার হিজলা থানার পত্তনীভাঙ্গা এলাকার মাউলতলা গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক মোঃ শাহজাহানের ছেলে আবিদুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলাই ছিল তার মূল কৌশল। বিয়ের প্রলোভন ও দামি উপহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি একাধিক নারীর বিশ্বাস অর্জন করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এক ঘটনায় আবিদুর এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুয়া বা জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে নানান অজুহাতে ওই তরুণী ও তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং একাধিক মূল্যবান উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নেন। অর্থ ও উপহার হস্তগত হওয়ার পরপরই তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে নিঃস্ব ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী তরুণী ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, “আবিদুর প্রথমে খুব সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং কৌশলে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখে। এখন সেসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের টাকা ও অনৈতিক সুবিধা দাবি করছে।”
কেবল চারিত্রিক স্খলন বা ব্ল্যাকমেইলিং নয়, কর্মক্ষেত্রেও আবিদুরের বিরুদ্ধে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার সহকর্মীরা জানান, চিকিৎসকদের প্রদানের জন্য বরাদ্দকৃত স্যাম্পল ও দামি ওষুধ কৌশলে সরিয়ে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করতেন তিনি। পূ্র্বের কর্মস্থান পিরোজপুরের স্থানীয় ফার্মেসি মহলেও এই ওষুধ চুরির বিষয়টি চাউর রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আবিদুরের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইতিপূর্বে পিরোজপুরে কর্মরত থাকাকালে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে উল্টো পিরোজপুর থেকে বরগুনার পাথরঘাটায় বদলি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, এরিয়া ম্যানেজারসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মোঃ আবিদুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
একজন শিক্ষকের সন্তান ও দেশের স্বনামধন্য একটি ওষুধ কোম্পানির দায়িত্বে থেকে কীভাবে একজন কর্মকর্তা এমন জঘন্য প্রতারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধে যুক্ত থাকতে পারেন—তা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা অবিলম্বে এই প্রতারক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোম্পানি থেকে তার স্থায়ী চাকরিচ্যুতির দাবি জানিয়েছেন।
















