পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং নবনিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি রাজনৈতিক জীবনে পটুয়াখালী বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন দুই যুগেরও বেশি সময়। ২০২৩-২০২৫ এর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির কাউন্সিলে তিনি বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পেশাগত জীবনে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তিনি স্থানীয় জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূলের রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকেছেন হামলা-মামলা-নির্যাতন মোকাবেলা করে। পটুয়াখালী অঞ্চলের রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবর্তনে বিএনপির আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ে। সম্প্রতি অপরাধচিত্র’র নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর হোসেন’র সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন…
পটুয়াখালী পৌরসভা কেবল একটি স্থানীয় প্রশাসনিক একক নয়; কৌশলগতভাবে এটি বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা দক্ষিণ বাংলার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রবেশদ্বার। পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সংযোগস্থল হিসেবে এই জনপদের গুরুত্ব এখন জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। তবে দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং নাগরিক সেবার স্থবিরতা শহরটির সম্ভাবনাকে এক অদৃশ্য শিকলে বেঁধে রেখেছে।
আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন প্রধান প্রশ্নকে ভাঙবেন এই স্থবিরতার দেয়াল? কে দেবেন এই উপকূলীয় শহরটিকে আধুনিক ও টেকসই রূপ?
নাগরিকদের এই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে যার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবুর রহমান টোটন। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ খলিলুর রহমান সিকদার ছিলেন পটুয়াখালী সরকারি কলেজ সংসদের প্রথম ভিপি ও জেলা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। পিতার সেই দীর্ঘ ২৩ বছরের ত্যাগ ও রাজনৈতিক আভিজাত্যের উত্তরাধিকার বহন করছেন তিনি। ধান গবেষণা রোডস্থ তাঁর ঐতিহ্যবাহী বাসভবন ‘শিকড়’-এর প্রাঙ্গণে বসে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন আমাদের।
অপরাধচিত্র: আপনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আবার একই সাথে জ্যেষ্ঠ আইনজ্ঞ। এই দ্বিমুখী অভিজ্ঞতাকে পৌরসভার মতো একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় ‘সুশাসন’ নিশ্চিত করতে কীভাবে কাজে লাগাবেন?
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: আইন পেশা আমাকে শিখিয়েছে কাঠামোগত ন্যায্যতা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে, আর রাজনীতি আমাকে দিয়েছে মানুষের হৃদস্পন্দন বোঝার ক্ষমতা। পৌরসভা হলো তৃণমূলের মানুষের নাগরিক অধিকার আদায়ের প্রথম দুর্গ। আমি মনে করি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার অসম্ভব। একজন রাজনীতিক যখন আইন বোঝেন, তখন সেখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকে না। আমার লক্ষ্য- দলমত নির্বিশেষে একটি ‘ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পৌর প্রশাসন’ গঠন করা, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে এবং প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ছাড়া তাঁর অধিকার ফিরে পাবেন।
অপরাধচিত্র: পটুয়াখালী বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ফ্রন্টলাইনে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বর্ষায় তীব্র ‘জলাবদ্ধতা’ শহরটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই ক্রনিক ও পরিবেশগত সংকটের টেকসই আন্তর্জাতিক মানের সমাধান আপনার কাছে কী?

‘আইন পেশা আমাকে শিখিয়েছে কাঠামোগত ন্যায্যতা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে, আর রাজনীতি আমাকে দিয়েছে মানুষের হৃদস্পন্দন বোঝার ক্ষমতা। পৌরসভা হলো তৃণমূলের মানুষের নাগরিক অধিকার আদায়ের প্রথম দুর্গ। আমি মনে করি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার অসম্ভব। একজন রাজনীতিক যখন আইন বোঝেন, তখন সেখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকে না’
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: অত্যন্ত চমৎকার এবং সময়োপযোগী প্রশ্ন। জলাবদ্ধতা পটুয়াখালীর জন্য কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি গ্লোবাল ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটির অংশ। সনাতন পদ্ধতিতে শুধু ড্রেন পরিষ্কার করে এর সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘হাইড্রোলজিক্যাল মাস্টারপ্ল্যান’।
আমি নির্বাচিত হলে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (যেমন- বিশ্বব্যাংক বা জিপিএ) সহায়তায় শহরের ভেতরের প্রাকৃতিক খালগুলো দখলমুক্ত ও খনন করে ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক (Blue-Green Network) তৈরি করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মাথায় রেখে ‘স্মার্ট স্লুইস গেট’ ও পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। আমি মেয়র হলে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করব। পটুয়াখালীকে আমরা একটি ‘ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সিটি’ বা জলবায়ু-সহনশীল মডেল শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।
অপরাধচিত্র: বর্তমান যুগ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR)। কিন্তু আমাদের পৌরসেবা এখনো এনালগ ও ধীরগতির। ‘স্মার্ট গভর্নেন্স’ এবং সরকারি সেবাকে প্রযুক্তিবান্ধব করতে আপনার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ কী?
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: আমরা যদি বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে চাই, তবে ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ বা প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করতে হবে। আমরা একটি সমন্বিত ‘পৌর অ্যাপ’ (Municipality App) এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করব। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং নাগরিক সনদের আবেদন মানুষ ঘরে বসেই করতে পারবেন। ব্লকচেইন ও ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার করে পৌরসভার আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ও স্বচ্ছ করা হবে। পৌরসভা নাগরিকের দোরগোড়ায় যাবে, নাগরিককে পৌরসভার বারান্দায় ঘুরতে হবে না- এটিই আমার মূল দর্শন।
অপরাধচিত্র: আপনি একজন উচ্চশিক্ষিত পরিবারের প্রতিনিধি, আপনার সন্তানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত। পটুয়াখালীর তরুণ ও যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে আপনার পরিকল্পনা কী? তরুণদের মাদক ও অবক্ষয় থেকে বাঁচানোর পথই বা কী?

‘পৌর নির্বাচন আমাদের কাছে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি জনগণের ভোটাধিকার এবং লোকাল ডেমোক্রেসি পুনরুদ্ধারের লড়াই। পটুয়াখালীর মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা উন্নয়ন ও সততার পক্ষে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে পটুয়াখালীর সচেতন জনগণ বিপুল ভোটে ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের ওপর আস্থা রাখবে, ইনশাআল্লাহ’
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: তরুণরাই আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend)। আমার পরিবারে শিক্ষার যে পরিবেশ, আমি পটুয়াখালীর প্রতিটি ঘরে সেই আলো ছড়িয়ে দিতে চাই। আমার সন্তান আইইউটি থেকে পাস করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর গবেষণা করছে; আমি চাই পটুয়াখালীর সাধারণ ঘরের সন্তানটিও যেন বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পায়।
এজন্য আমরা পৌর উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ইনকিউবেশন সেন্টার’ গড়ে তুলব, যেখানে গ্লোবাল আউটসোর্সিং মার্কেটের উপযোগী করে তরুণদের বিনামূল্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে। আর যুবসমাজকে মাদক, গ্যাং কালচার ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক খেলার মাঠ, যুব ক্লাব এবং একটি বিশ্বমানের ডিজিটাল পাবলিক লাইব্রেরি কাম কালচারাল সেন্টার স্থাপন করা হবে।
অপরাধচিত্র: আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘লিঙ্গ সমতা’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ (Inclusive Development) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী, শিশু ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড (প্রতিবন্ধী) নাগরিকদের জন্য আপনার ইশতেহারে কী বিশেষ রূপরেখা থাকছে?
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: একটি শহর কতটা সভ্য ও আধুনিক, তা পরিমাপ করা হয় সেই শহরের নারী ও শিশুরা কতটা নিরাপদ এবং সুবিধাবঞ্চিতরা কতটা মূল স্রোতে আছে তার ওপর। আমি পটুয়াখালীকে একটি ‘নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল শহর’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও নিরাপদ আবাসন, শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের জন্য পরিবেশবান্ধব থিম পার্ক এবং প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় প্রতিবন্ধীবান্ধব র্যাম্প ও অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করা হবে। প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পৌর তহবিল থেকে বিশেষ ক্ষুদ্র ঋণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
অপরাধচিত্র: একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে পৌর নির্বাচনে আপনার দলের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

আমরা একটি সমন্বিত ‘পৌর অ্যাপ’ (Municipality App) এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করব। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং নাগরিক সনদের আবেদন মানুষ ঘরে বসেই করতে পারবেন। ব্লকচেইন ও ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার করে পৌরসভার আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ও স্বচ্ছ করা হবে। পৌরসভা নাগরিকের দোরগোড়ায় যাবে, নাগরিককে পৌরসভার বারান্দায় ঘুরতে হবে না- এটিই আমার মূল দর্শন’
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে পটুয়াখালী বিএনপি আজ যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ, পরিপক্ব এবং শক্তিশালী। আমার পিতা এই জেলায় দলের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। রক্তের উত্তরাধিকার এবং রাজপথের লড়াইয়ের কারণে তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীর সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক।
পৌর নির্বাচন আমাদের কাছে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি জনগণের ভোটাধিকার এবং লোকাল ডেমোক্রেসি পুনরুদ্ধারের লড়াই। পটুয়াখালীর মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা উন্নয়ন ও সততার পক্ষে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে পটুয়াখালীর সচেতন জনগণ বিপুল ভোটে ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের ওপর আস্থা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।
অপরাধচিত্র: সবশেষে, পটুয়াখালীবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার চূড়ান্ত বৈশ্বিক অঙ্গীকার বা ভিশন কী?
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন: আমার বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট- আমি আপনাদের শাসক হতে আসিনি, একজন ট্রাস্টি বা সেবক হতে চাই। পটুয়াখালী আমার অস্তিত্ব, আমার ভালোবাসা। আমার রক্তের ধমনীতে মিশে আছে এই মাটির ঋণ। আমি আপনাদের একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং ত্রিমাত্রিক (গ্রিন, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট) মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করছি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, দলমত নির্বিশেষে আসুন আমরা একসাথে আমাদের প্রিয় শহরটিকে বদলে দিই। আপনাদের একটি সুযোগ হবে পটুয়াখালীর আগামীর শতাব্দী বিনির্মাণের চাবিকাঠি।

‘পটুয়াখালী আমার অস্তিত্ব, আমার ভালোবাসা। আমার রক্তের ধমনীতে মিশে আছে এই মাটির ঋণ। আমি আপনাদের একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং ত্রিমাত্রিক (গ্রিন, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট) মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করছি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, দলমত নির্বিশেষে আসুন আমরা একসাথে আমাদের প্রিয় শহরটিকে বদলে দিই’
’শিকড়’-এর প্রাঙ্গণে আশার আলো : ধান গবেষণা রোডস্থ তাঁর ঐতিহ্যবাহী বাসভবন ‘শিকড়’-এর লনে যখন এই দীর্ঘ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংলাপটি শেষ হলো, তখন গোধূলির আলোয় দক্ষিণ বাংলার আকাশ এক অপরূপ রূপ ধারণ করেছে। অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের প্রতিটি বাক্যে যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের নগর দর্শনের ধারণা এবং পটুয়াখালীর মাটির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে, তা সত্যিই এক নতুন আশার সঞ্চার করে। তিনি কেবল লোকদেখানো প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়াননি, বরং প্রতিটি সংকটের বৈজ্ঞানিক, কাঠামোগত ও বাস্তবমুখী প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান দেখিয়েছেন।
পটুয়াখালীর সাধারণ ভোটার ও সুশীল সমাজের বিশ্বাস—জাতীয় রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের এমন একজন উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সৎ দূরদর্শী নেতাই পারেন পটুয়াখালীকে দীর্ঘদিনের অবক্ষয় ও স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি প্রথম সারির আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে। ভাঙাগড়ার এই রাজনীতিতে মজিবুর রহমান টোটনই কি তবে পটুয়াখালীর আগামীর কাণ্ডারি? সময় এবং পটুয়াখালীবাসীর রায়ই তা নির্ধারণ করবে।
পত্রিকার পতা থেকে পড়ুন এই লিংকে https://online.fliphtml5.com/nrumk/Adv-Majibur-Rahman-Toton/

















