মিজানুর রহমান, জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর :
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় পুরাপাড়া থেকে চাঁদহাট বাজার পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যের ৫ কিলোমিটার ১৩৮ মিটার দীর্ঘ সড়কটির কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে জোড়াতালি ও পুটিং করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সড়কটির কাজ করছে সাইয়ম এন্টারপ্রাইজ। কাজ চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের কাজ চলাকালে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন। এ ছাড়া সড়ক থেকে তুলে নেওয়া টপসয়েল বেতাল আলিয়া মাদ্রাসায় রেখে মেশিনে গুঁড়া করে পুনরায় রাতের আঁধারে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এসব কারণে সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক মাসের মধ্যেই ঠিকাদারকে বিভিন্ন স্থানে জোড়াতালি ও পুটিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সার্ভেয়ার ইব্রাহিস বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের ফিনিশিংয়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এ কারণে কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু সমস্যা চোখে পড়ে। ঠিকাদারকে দিয়ে পুনরায় সেসব সমস্যা ঠিক করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুর রহমান গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে যোগদান করেন। তিনি বলেন, তাঁর যোগদানের আগেই সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির সময় কার্পেটিংয়ের কাজ করায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরে ঠিকাদারকে দিয়ে সেসব সমস্যা পুনরায় ঠিক করা হয়েছে।
এদিকে সড়কের কাজে অনিয়ম এবং টপসয়েল পুনরায় ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে উন্নয়নমূলক কাজ করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের কাজ নিম্নমানের হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের জানিয়েছেন। সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম করে যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সড়কটির কাজের মান যাচাই, টপসয়েল পুনর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করে সড়কটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিশ্চিত করবে।

















