Sunday , 21 June 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নকে আধুনিক ও জনবান্ধব মডেল হিসেবে গড়তে চাই: মো. ফিরোজ আলম গোলদার

প্রতিবেদক
Newsdesk
June 21, 2026 9:28 pm

মো. আলমগীর হোসেন (মির্জাগঞ্জ): আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে চেয়ারম্যান পদে আবারও প্রার্থী হতে চান বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. ফিরোজ আলম গোলদার। উল্লেখ, ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি এই ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ফিরোজ আলম গোলদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এম.এ এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। উচ্চশিক্ষিত ফিরোজ আলম গোলদার বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। রাজনীতি ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি গোলদার ট্রেডার্স, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট এ মাধ্যমে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিংয়ের ব্যবসা করছেন দীর্ঘদিন।
এছাড়া তিনি সুবিদখালী দারুসছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসা, ভাজনা কদমতলা নুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা এবং মনোহরখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, চিন্তাভাবনা ও দর্শনের কথা তুলে ধরেন।
অপরাধচিত্র : শোনা যাচ্ছে আপনি ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: দেখুন, আমি এই মাটিরই সন্তান। মির্জাগঞ্জের প্রতি আমার একটি গভীর নাড়ির টান রয়েছে। আমার শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই একটা লক্ষ্য ছিল- জনগণের সেবা করা। ২০১৬ সালে আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের বিপুল ভালোবাসা পেয়েছিলাম। আমার মূল চিন্তা ও চেতনা হলো ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকা, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে সেবা করা। অবহেলিত এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এলাকার সাধারণ ভোটারেরা চাইলে আমি এবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই।
অপরাধচিত্র: গত নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জনগণের সাথে আপনার যোগাযোগ কেমন ছিল?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: নির্বাচন কোনো সাময়িক বিষয় নয়, মানুষের সাথে সম্পর্কটাও কেবল ভোটের জন্য নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, আমি এক মুহূর্তের জন্যও আমার এলাকার মানুষকে ভুলে যাইনি। একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি ঢাকা বা চট্টগ্রামে ব্যস্ত থাকলেও, নিয়মিত এলাকায় ছুটে এসেছি। করোনাকালীন সংকট কিংবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সুখের দিনে না হলেও, দুঃখের দিনে এলাকার মানুষ সবসময় আমাকে কাছে পেয়েছে।
অপরাধচিত্রঃ নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে আপনার প্রধান অগ্রাধিকারগুলো কী কী হবে?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: আমার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হবে ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে আমি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দেবো। তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাবো। ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং একটি প্রকৃত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান কাজ।
অপরাধচিত্রঃ আপনি আইনের ছাত্র (এলএলবি ডিগ্রিধারী)। আপনার এই আইনি শিক্ষা ইউনিয়ন পরিচালনায় বা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কীভাবে কাজে লাগবে?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: আইন নিয়ে পড়ার কারণে সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্ব আমি খুব ভালো অনুধাবন করি। ইউনিয়ন পরিষদে প্রায়ই সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ছোটখাটো বিরোধ বা সালিশ-বিচারের জন্য আসে। অনেক সময় দেখা যায়, সঠিক আইনের অপব্যবহার বা পক্ষপাতিত্বের কারণে গরিব ও অসহায় মানুষ বঞ্চিত হয়। আমার আইনি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমি ইউনিয়নে একটি নিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন ও পক্ষপাতহীন শালিসি ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই, যাতে কোনো অসহায় মানুষকে অন্যায়ের শিকার হতে না হয়।
অপরাধচিত্রঃ আপনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে যুক্ত আছেন। সামাজিক উন্নয়নে এগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: আমি মনে করি, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সুবিদখালী দারুসছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসা, ভাজনা কদমতলা নুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা এবং মনোহরখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। সমাজ থেকে নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার দূর করতে আমি আমৃত্যু কাজ করে যাবো।
অপরাধচিত্র: বর্তমানে তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। তরুণদের রক্ষায় আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ভীতিজনক একটি চিত্র। তরুণদের এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে তাদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ করব এবং নিয়মিত টুর্নামেন্টের আয়োজন করব। এছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কারিগরি ও আইসিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
অপরাধচিত্রঃ আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা (যেমন ১৯৯৪ সালে সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ছিলেন)। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ইউনিয়ন পরিচালনায় কতটুকু সাহায্য করবে?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: ১৯৯৪ সালে সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হিসেবে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মির্জাগঞ্জ উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি। রাজনীতি আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়, কীভাবে মানুষের মন জয় করতে হয়। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, চড়াই-উতরাই এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মানসিকতা আমাকে ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের সুখে-দুঃখে সঠিক নেতৃত্ব দিতে শক্তি জোগাবে।
অপরাধচিত্রঃ আপনি একজন সফল ব্যবসায়ীও বটে। রাজনীতি ও ব্যবসা- এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় কীভাবে করবেন?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: ব্যবসা আমার জীবিকা, আর রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার লক্ষ্য। আমি মনে করি, একজন মানুষ সৎ ও সচ্ছল হলে সে নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করতে পারে। আমার ব্যবসার একটা সুপ্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে, যা আমার অনুপস্থিতিতেও চলতে পারে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলে আমার শতভাগ সময় এবং মনোযোগ থাকবে ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের জনগণের কল্যাণে।
অপরাধচিত্রঃ ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নকে একটি ‘মডেল ইউনিয়ন’ হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার মূল রূপরেখা কী?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: আমার মডেল ইউনিয়নের মূল ভিত্তি হবে ৩টি; ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার জন্য মানুষকে যেন দিনের পর দিন ঘুরতে না হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সাহায্য ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার সুষ্ঠু বণ্টণ-বিতরণে সচেষ্ট থাকবো। স্বজনপ্রীতিকে পাশ কাটিয়ে প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।
অপরাধচিত্রঃ ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার শেষ বার্তা কী?
মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার: ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে আমি শুধু এটুকুই বলবো- আমি আপনাদেরই ভাই, আপনাদেরই সন্তান। কোনো ব্যক্তিগত লোভ বা স্বার্থের জন্য নয়, বরং আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে আমি আপনাদের একজন সেবক হতে চাই। আপনারা যদি আমাকে সুযোগ দেন, তবে আপনাদের পাশে থেকে ২নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নকে পটুয়াখালী জেলার মধ্যে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ। আমি সবার দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করছি।

সর্বশেষ - রাজনীতি