নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার অনলাইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাংবাদিকরা।
এরই প্রেক্ষিতে আগামী রোববারের (১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান না হলে নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচার নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিননের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ‘সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও এখনো পর্যন্ত নীতিমালার সংশোধন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন অনলাইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য কার্ড ও স্টিকার আবেদনের নতুন একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়। এতে বর্তমানে যেমন সমস্যা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও আরও জটিলতা তৈরি হবে।’
কাজী জেবেল বলেন, ‘সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী রোববারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচার বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন থেকে যে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার প্রদান করা হয়, সেটির জন্য এবার নতুন অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি।এই পদ্ধতিটি মোটেও ব্যবহারপোযোগী নয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সকল সাংবাদিককে কার্ড প্রদান করা বাস্তবসম্মত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আগের মতো সহজ পদ্ধতিতে কার্ড ও স্টিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে যে নতুন নীতিমালার কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে আগামী রোববারের মধ্যেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে, সম্ভব হলে তার আগেই। যদি সমাধান না হয়, তাহলে আমরা আবার বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সবাইকে জানাবো।’

















