রংপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ বানাতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে মদিনার মডেল বানাতে চাই। আফগান, ইরান, পাকিস্তান বানাতে চাই না। মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। যা পারব না তা বলব না। কাউকে বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দেওয়া মানে বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি করা। প্রতিটি সক্ষম নারী-পুরুষের হাতকে শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই।’
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে দশদলীয় জোট আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘রংপুরের মানুষ অনেক ভালো। শিক্ষিত, নম্র, ভদ্র। অল্পতেই তুষ্ট। নিজেদের দাবির ব্যাপারেও বলে না। আমরা অপরাধী ব্যক্তি ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মামলা করিনি। কোনো মামলা বাণিজ্য করিনি। আমার-আপনার কারোর অধিকার নেই কাউকে বিপদে ফেলার।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি চাই না। যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদী, চোর, দুর্নীতিবাজ বানায়—সে রাজনীতি চাই না। যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জামায়াত কাজ করবে।’
তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘রংপুর বিভাগ শস্যভাণ্ডার। তিস্তা, ধরলাসহ শত শত নদীর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন করে উত্তরাঞ্চলকে জীবন্ত করে তুলব। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে। কৃষির বিপ্লব ঘটবে। উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী করা হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষকে ছোট চাকরির জন্য ঢাকা ছুটতে হবে না।’
জনসভায় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন, ‘আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি। কথা রেখেছি। আমাদের তিন ভাই তিন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছে—তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসেনি।’
জনসভায় রংপুরের ছয়টি আসনের দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সমাবেশে ‘ইনশাআল্লাহ এবার হবে দাঁড়িপাল্লা’, ‘ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা’ স্লোগান তোলা হয়।


















