বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

অন্তর্বর্তী সরকারের সতের মাসে ১৯৫ রাজনৈতিক মৃত্যু

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ৮:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশে নানামুখী সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ এলেও মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং রাজনৈতিক সহিংসতা, মব হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্তে হত্যা, বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সংস্থাটির ১৭ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,দলীয় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধপরায়ণতা, সমাবেশকেন্দ্রিক সংঘর্ষ, নির্বাচন ও চাঁদাবাজিকে ঘিরে ১৪১১টি সহিংস ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১৩৪, আওয়ামী লীগের ২৬, জামায়াতের ৫, ইউপিডিএফের ৬ জনসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২১৬টি ঘটনায় আরও ৭ জন নিহত ও ১৪০৩ জন আহত হয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩৪৯টি মামলায় প্রায় ২৯ হাজার ৭৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৫ হাজারের বেশি অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ৫৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ৫৫ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া, পুলিশ গত এক বছরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের অন্তত ৫১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৪১৩টি মব সহিংসতা ও গনপিটুনীর ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ধর্মীয় অবমাননা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪১৩টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী— বিশেষ করে পুলিশের দায়িত্ব পালনে ভীতি ও অনীহা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৭ মাসে ৪২৭টি হামলায় অন্তত ৮৩৪ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত, ৯১ জন লাঞ্ছিত, ১০৩ জন হুমকির মুখে পড়েন এবং ৩৩ জন গ্রেফতার হন।

সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ৪১টি মামলায় ৩৩ জন গ্রেফতার এবং ৬৯ জন অভিযুক্ত হয়েছেন। সভা-সমাবেশে বাধা, ১৪৪ ধারা জারি ও সংঘর্ষে ৫৪৮ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন।

এতে হেফাজতে মৃত্যু ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে বলা হয়েছে, পুলিশি হেফাজত, নির্যাতন, কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে অসুস্থতা, আত্মহত্যা ও নির্যাতনে ১২৭ জন বন্দি (৪৪ কয়েদি ও ৮৩ হাজতি) মারা গেছেন।

এছাড়া ১৭ মাসে ২৬১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ১০১৬ জন, যার মধ্যে ৫৫০ জনই শিশু। ২৩০ জন গণধর্ষণের শিকার এবং ৩৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের শিকার ৫০৪ জন, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ১৮০২ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৪৩ জন নিহত, ৪৯ জন আহত ও ১৮৬ জন আটক হয়েছেন। পুশইনের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩৫০৯ জন।

মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হামলায় ৩ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় মন্দির, প্রতিমা ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

৫৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৬৪ জন নিহত ও ১৪৪৮ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আরও ২৫৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এসব বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হয় এবং মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনী সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয় সমাধান না করা হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এ সময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে অধিক সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

 

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত

মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আ. লীগের বিচার চায় জামায়াত

স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শ্রদ্ধা

ইসি আইনের বাইরে গিয়ে বড় দলগুলোকে সুবিধা দিচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

নাঈমুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন

বন্ধুত্ব করতে চাইলে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিন : ভারতকে মির্জা ফখরুল

ঢাকার খালগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে দলে ফিরলেন গ্রেভস, নতুন মুখ জাঙ্গো

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে দলে ফিরলেন গ্রেভস, নতুন মুখ জাঙ্গো

বাংলাদেশে আসছেন সৌদি যুবরাজ, এলএনজি খাতে বিনিয়োগের আশ্বাস

বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে কাল, থাকছে ৩৫১টি স্টল

স্ত্রীসহ সাবেক এমপি দুর্জয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা