জাহিদ হাসান নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে কলি হাসান নামের অপর সাংবাদিক।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেত্রকোণা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। দ্রুত বিচার মামলা সি আর নং-৮(১)/২৬। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক নুসরাত জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলায় আসামী করা হয়েছে, সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজীম শাইন, পলাশ সাহা এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন রণবীর। তাদের মধ্যে সজীম শাইন দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক, পলাশ সাহা দুবারের নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মামুন রণবীর তিনবারের নির্বাচিত সহ সভাপতি। তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও যুক্ত রয়েছেন। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সূচনালগ্ন থেকেই তারা সততা,বস্তুনিষ্ঠতা ও দক্ষতার সাথে এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপরাধ আড়াল করতে সম্মানহানি ও হয়রানি করতে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে কলি হাসান। মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের তিন সদস্য – সভাপতি কলি হাসানকে অফিস কক্ষে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির ওই মিটিংয়ে উপস্থিত বিভিন্ন সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেদিন মিটিংয়ে কলি হাসানের সাথে সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয় সদস্যদের। তারা ওই মিটিংয়ে রেজ্যুলেশনে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয়ে কলি হাসানের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান। কলি হাসান সদুত্তর দিতে না পেরে বারবার সদস্যদের থামিয়ে দেন এবং কথা বলতে বাধা দেন। সদস্য ও সম্পাদকের সাথে কথা না বলেই সম্পূর্ণ একতরফা – এককভাবে তড়িঘড়ি করে মিটিং স্থগিত করার ঘোষণা করেন। সাধারণ সম্পাদক নিয়মনীতি মেনে মিটিং সমাপ্ত করার কথা বললেও কলি হাসান কোন কর্ণপাত করেনি। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা বলেন, সংগঠনের সদস্যদের প্রতি তৎকালীন সভাপতি কলি হাসানের অসদাচরণ, সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত, সদস্যদের অবমূল্যায়ন করা, বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারো সাথে পরামর্শ না করে একক সিদ্ধান্তে যাচ্ছেতাইভাবে সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন করে কর্মসূচি করা সহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কারণে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক সহ বর্তমান পর্ষদের প্রতি অনাস্থা এনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উক্ত পর্ষদ বিলুপ্তি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সংগঠনের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। উক্ত সিদ্ধান্তগুলোতে সংগঠনের ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জন সদস্য লিখিতভাবে একমত পোষণ করেন। পরে এটি নিউজেও প্রকাশিত হয়। সংগঠনের সদস্যরা বলেন, এই আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কলি হাসান নতুন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে সে বিভিন্ন ঘটনার অবতারণা করে এবং সংগঠনে ভাঙন ধরানোর পাঁয়তারা করে। কলি হাসান গত ৩ মার্চ দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত অনুমান ০৮:৪৫ ঘটিকায় অফিসে গিয়ে আমার সংরক্ষিত ড্রয়ারের আমার ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ নথি, সংগঠনের বিভিন্ন দপ্তরের আবেদনের অনুলিপি, আমার ব্যবহৃত সীল, সাংবাদিক ০২টি আইডি কার্ড, জিআর চাল বিক্রয়ের ৩৫,০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা, টেবিলের উপরে থাকা একটি ডায়রী, সাংবাদিক লগোযুক্ত একটি গ্লাস যথাস্থানে পাই নাই। তখন টেবিলের উপরে আমার ব্যবহৃত নোম প্লেটটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাই। সাংবাদিক সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সজীব এবং নির্বাহী সদস্য দিলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, থানায় সাধারণ ডায়েরিতে যে সময় উল্লেখ করেছেন কলি হাসান সেই সময়ে অফিস সম্পূর্ণ আগের অবস্থাতেই ছিল, কোন অসংগতি ছিল না । শফিকুল আলম সজীব বলেন, আমি রাত ৯:৩০ পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। ওই সময় পর্যন্ত অফিসের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কলি হাসান মূলত মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সে জিআর চাল বিক্রির বিষয়টি কাউকে না জানিয়েই করেছে। এটি সম্পূর্ণ সংগঠন বিরোধী কাজ। অনেক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সে আমাকে বা কাউকে না জানিয়ে একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে করেছে। যা সম্পূর্ণরূপে সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী।
দিলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, কলি হাসান প্রাণনাশের হুমকি উল্লেখ করে যে মামলাটি দায়ের করেছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা। যাদের অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে সাংবাদিকতা করছেন। মূলত তাদেরকে হয়রানি করতেই এই মামলা করেছে কলি হাসান। আমরা এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। কলি হাসান জিআর চাল বিক্রির টাকা নিজে আত্মসাৎ করতেই এতো নাটক সাজাচ্ছে। সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আদনানুর রহমান বলেন, কলি হাসানের এই ন্যাক্কারজনক কান্ডের নিন্দা জানায় সাংবাদিক সমিতি। তার বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















