নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের শতভাগ পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আর বোনাস দেওয়া হয়েছে ৯৯ শতাংশেরও বেশি কারখানায়। আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বুধবার বিকেলে ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাথে লাইভে যুক্ত হয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, দুটি কারখানায় বেতন দেওয়া বাকি ছিল যখন আমরা সংবাদ সম্মেলন করছিলাম। এখন বাকি দুটো কারখানারও বেতন প্রদান করা হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আমরা বলতে পারি, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন একশ শতাংশ প্রদান করা হয়েছে। ৪টি কারখানা তাদের অক্ষমতার কারণে বোনাস দিতে পারেনি। তারা ঈদের পরে এই বোনাসটা দিয়ে দিবে।
এর আগে রাজধানীর উত্তরায় আজ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের বকেয়া ও পরিশোধের চিত্র তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ঈদের আনন্দ শ্রমিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংকটের মধ্যেও সচেষ্ট পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এখন পর্যন্ত ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। এছাড়া প্রায় ৬৪ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতনও অগ্রিম হিসেবে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ঢাকা অঞ্চলের ১৭৮৩ কারখানার মধ্যে ১৭৮১ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং ১৭৭৭ কারখানায় শ্রমিকদেরকে বেতন-বোনাস দুটোই প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে শতভাগ কারখানায় শ্রমিকদেরকে বেতন-বোনাস প্রদান করেছে মালিকপক্ষ।
তবে পরবর্তীতে বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছেন যে, দেশের শতভাগ পোশাক শ্রমিক ঈদের আগেই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পেয়েছেন। আর ঈদ বোনাস পাননি কেবল ঢাকার ৪ কারখানার শ্রমিকরা। তবে তাদেরকেও ঈদের পর বোনাস পরিশোধ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে, উত্তরায় অনুষ্ঠিত আজকের সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেতন-বোনাস নিয়ে স্বস্তির খবর থাকলেও, পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ চিত্র উদ্বেগজনক। চলতি অর্থবছরের আট মাসে এ খানে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় পৌনে ৪ শতাংশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের ইউনিট প্রতি দাম কমার পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলার হারও নিম্নমুখী। এছাড়া আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটও।
সার্বিকভাবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মন্দার কারণে দেশের প্রধান এই রপ্তানি খাত বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
তিনি বলেন, আমরা একটা স্থায়ী সমাধান চাই। সেই পরিকল্পনা আমাদের আছে। পরিকল্পনা যদি মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন, আমরা আশা করব এই সমস্যা থাকবে না।
এদিকে, শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, বিজিএমইএ’র বাইরে কিছু ছোট কারখানায় বুধবার পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন প্রদান করেছে এবং বোনাস দিয়েছে ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ কারখানা


















