Wednesday , 15 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

৬ মাসে মব সহিংসতা-গণপিটুনিতে নিহত ১৩৩: এইচআরএসএস

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 15, 2026 7:36 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত এবং ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৩ জন এবং আহত হয়েছেন ২৫৬ জন। এছাড়া ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এমনটি দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

বুধবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন) মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫৬ জন নিহত এবং ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের একই সময়ে ৫২৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৭৯ জন এবং আহত হন ৪ হাজার ১২৪ জন।
নিহত ৫৬ জনের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন (৬৬ শতাংশ), জামায়াতের ৬ জন (১১ শতাংশ), আওয়ামী লীগের ৩ জন, অন্যান্য দলের ৮ জন, একজন চরমপন্থী সদস্য এবং একজন সাধারণ নারী রয়েছেন। এছাড়া, ৮৩০টি সহিংস ঘটনার মধ্যে ৬৭৩টি (৮১ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতে।

বিএনপির দলীয় কোন্দলেই নিহত ৩১
ছয় মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২৭৩টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৯২ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩১ জন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ২৯০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন এবং নিহত হয়েছেন ১০ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের ৭৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৬৪ জন এবং নিহত হয়েছেন ৭ জন। এছাড়া বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষের ৩৩টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫০ জন, আওয়ামী লীগ-এনসিপি সংঘর্ষের তিনটি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫১ জন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের সংঘর্ষের ৯৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫১ জন।

দুষ্কৃতকারীদের হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর অন্তত ৬৪টি হামলার ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২০ জন, আওয়ামী লীগের ৯ জন, জামায়াতের ৪ জন এবং অন্যান্য দলের ৫ জন সদস্য রয়েছেন। এ সময়ে শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় কোন্দল ও সংঘর্ষে ৯ শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, বিভিন্ন দলের সমাবেশ, প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে ৩৯৬টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময়ে রাজনৈতিক মামলায় বিভিন্ন দলের অন্তত ৩ হাজার ৬৭ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২ হাজার ৪১৫ জন, বিএনপির ৪৯৭ জন, জামায়াতের ১০৯ জন এবং এনসিপির ২৬ জন। এছাড়া যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ২৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনায় গত ছয় মাসে ৪০টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ৩১১ জন আহত এবং ৩৮ জন আটক হয়েছেন।

৩৮৩ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার
সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩৪ জন, লাঞ্ছিত হয়েছেন ৬০ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪৯ জন এবং ১১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে ৩৩ জন সাংবাদিককে আসামি করে ১৫টি মামলা হয়েছে।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় গত ছয় মাসে ২৬১টি ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে ১৪১টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৬৭ জন এবং আহত হন ১১৯ জন।

সীমান্তের বিএসএফের হাতে নিহত ৯, আহত ৩৫
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩২টি ঘটনায় বিএসএফের হামলায় ৯ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৩৮ জনকে আটক এবং অন্তত ১৭৩ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২০টি সহিংস ঘটনায় একজন নিহত, পাঁচজন আহত এবং ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ছয়জন।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ছয় মাসে কারাবন্দি থাকাবস্থায় ৫৮ জনের মৃত্যু
কারা হেফাজতে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ জন কয়েদি এবং ৩২ জন হাজতি। দীর্ঘদিন গুমের অভিযোগ না থাকলেও বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নামে এক যুবককে কোস্ট গার্ড পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতায় ২১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বেড়েছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন
গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। তাদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন, যাদের ২৩৮ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৮ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। এছাড়া ৪৭৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩২০ জন নারী।

একই সময়ে ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৫ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ৭৭২ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলো মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনকে আরও সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান ইজাজুল ইসলাম।

সর্বশেষ - রাজনীতি