নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে।
সোমবার বিকালে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে নবীউল্লাহ নবীর সমর্থনে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, আজকে এত মানুষের সমাগম দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমরা যেই মানুষটিকে- নবীউল্লাহ সাহেবকে ধানের শীষ দিয়েছি- আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে এই যাত্রাবাড়ী-ডেমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশাল স্বাক্ষর বহন করছে আমাদের সেই আন্দোলন সফলতায়। এই যাত্রাবাড়ী-ডেমরার মানুষ সেদিন সেই আন্দোলনকে সফল করার জন্য অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্বৈরাচারের বিদায়ে এই এলাকার মানুষ অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন- তার জন্য আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে এলাকাবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জানাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার বাস্তবায়ন করার পথে চলে এসেছি। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার- যে ভোটের অধিকার- সেটি প্রয়োগ করতে চলেছে। কিন্তু শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ হলেই চলবে না। আমাদের এই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। এই যে মানুষগুলো যারা বসে আছেন, তাদের যে স্বজনরা- কারো ভাই, কারো সন্তান- এভাবে যে বিভিন্ন আপনজনদের হারিয়েছেন- সেই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা ছিল। কী সেই প্রত্যাশা? সেই প্রত্যাশা ছিল- যে এই বাংলাদেশের নারীরা স্বাবলম্বী হবে। এই বাংলাদেশের মানুষ- সে নারী হোক বা পুরুষ হোক- তারা নিরাপদে রাস্তাঘাটে চলতে পারবে। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবে। পেশাজীবীরা নিরাপদে চাকরি-বাকরি করতে পারবে। এলাকার সন্তানেরা নিরাপদে লেখাপড়া করতে পারবে। এলাকার মানুষ- এলাকার যারা তরুণ, যারা যুবক, যারা পড়ালেখা শেষ করেছে- তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এলাকার মানুষ- তাদের মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা পাবে- এরকম একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ছিল।
তারেক রহমান বলেন, আজ ভোট যেমন আমরা প্রয়োগ করব- একই সাথে আমাদের বাংলাদেশকে গড়তে হবে আগামী দিনের জন্য- ঠিক? তাহলে কে কে আছেন বাংলাদেশ গড়ার জন্য? দেশকে যদি গড়তে হয়- তাহলে অবশ্যই একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। জাতির ভাগ্য যদি পরিবর্তন করতে হয়- তাহলে অবশ্যই কর্মসূচি থাকতে হবে। দেশ এবং জাতিকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়- অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়- তাহলে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে একটি রাজনৈতিক দলের। ঠিক? অভিজ্ঞতা দরকার দেশ পরিচালনার জন্য। পরিকল্পনা দরকার দেশ পরিচালনার জন্য। কর্মসূচি দরকার জনগণের জন্য। এই মুহূর্তে যত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে- একমাত্র বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে আছে। যাদের কর্মসূচি আছে যে তারা কীভাবে দেশকে গড়ে তুলতে চায়- সামনের দিকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সামনের দিকে। আর একমাত্র বিএনপি হচ্ছে সেই দল যাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। আর কোনো রাজনৈতিক দলের অভিজ্ঞতা নেই দেশ পরিচালনা করার। আমরা অনেক রাজনৈতিক দলের অনেক সুন্দর সুন্দর কথা শুনি, অনেক মধুর মধুর কথা শুনি- যেগুলো শুনলে আমাদের হয়তো ভালো লাগে, আমরা জোরে জোরে হাততালি দেই। কিন্তু দেশ পরিচালনা অত সহজ ব্যাপার নয়। দেশ পরিচালনা অনেক কঠিন ব্যাপার।
তিনি বলেন, এই যে ইপিজেড-এর দাবি- এখানে নবীউল্লাহ নবী ইপিজেড-এর দাবি করেছেন। ইনশাআল্লাহ এই যে পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে- ফলে কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে এই জায়গাগুলোতে আমরা নতুন ইপিজেড কারখানা তৈরি করব। শীতলক্ষ্যার পাড় দিয়ে নতুন ইপিজেড হবে- যাতে করে বেকার যারা আছে, এই এলাকার মানুষ যারা আছে- তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এই যে ইপিজেড-এর কথা, ইপিজেড-এর যে দাবি- এই ইপিজেড বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রথম কে করেছিলেন জানেন আপনারা? এই ইপিজেড চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠন করেছিলেন। সেইজন্যই আমি বলেছি- যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয় সেটি করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। যদি ইপিজেড গঠন করতে হয়- কীভাবে ইপিজেড গঠন করতে হয় সেই অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির আছে- আর কোনো দলের নেই। যদি অন্য দলের থাকত- তাহলে তো ১৬ বছর আমরা দেখতেই পারতাম তারা ইপিজেড করত। করেছে তারা? করেনি, কারণ তাদের সে অভিজ্ঞতা নেই, তাদের করার ইচ্ছাও নেই। আর অন্য দল যারা আছে- তাদের তো কোনো রকম অভিজ্ঞতাই নেই।
নবীউল্লাহ নবীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা–৫ আসনের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য এই এলাকায় হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে এখানে অনেক মুরুব্বি উপস্থিত আছে- মুরুব্বিরা ভালো বলতে পারবেন। দেশ স্বাধীনের পরে যাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়েছিল- সেই সময় মানুষ দেখেছে আইনশৃঙ্খলার কী অবনতি ছিল। সেই সময় মানুষ দেখেছে ৭৪ সালে কীভাবে দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন- সেই সময় তিনি কঠোর হস্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব পেলেন- তখন দুর্ভিক্ষ পীড়িত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করলেন- দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন হলো সেই দেশে। অর্থাৎ বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হয়। পরবর্তীতে ৯০-এর স্বৈরাচার- এই এলাকার মানুষ ৯০-এর স্বৈরাচার আন্দোলনেও বিশাল ভূমিকা রেখেছিল। এই নবীউল্লাহ নবী সেদিন ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগের সরকার বিদেশ থেকে গ্যাস নিয়ে আসত। কিন্তু দেশের মধ্যে নতুন গ্যাস খনি তারা বের করে নাই। বাংলাদেশের প্রচুর গ্যাস আছে- আমরা ইনশাআল্লাহ সেই গ্যাসের খনি আবিষ্কার করব এবং সেই গ্যাস বের করার মাধ্যমে আমরা মিল-ফ্যাক্টরি, ঘরে ঘরে গ্যাস ইনশাআল্লাহ পৌঁছাব।
বক্তব্যের শেষে তিনি ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী নবীউল্লাহ নবীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ তুলে দেন। সেইসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নবীউল্লাহ নবীকে আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখবেন ইনশাআল্লাহ। ১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে পরে ১৩ তারিখ থেকে এই নবীউল্লাহ নবী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন এই এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য, এই এলাকার মানুষের বিপদে। অতীতেও যেভাবে তিনি ছিলেন ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তিনি আপনাদেরই পাশে থাকবেন, আপনাদের এলাকার সন্তান আপনাদেরই পাশে থাকবে।

















