নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইমুর হাসান টিটন হত্যার ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই মামলা দায়ের করেন টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব।
ওসি বলেন, টিটন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার টিটনের নাম ছিল।
৫২ বছর বয়সী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের স্ত্রীর বড় ভাই। পুলিশ বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলে টিটনকে হত্যা করা হতে পারে। তাই এ হত্যাকাণ্ডে ইমনসহ সন্দেহভাজন ও সন্দেহজনক সবকিছুকেই সামনে রেখে তদন্ত করছে তারা।
গতকাল রাতে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে রাত সোয়া ১০টার দিকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে টিটনের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার বাবার নাম কে এম ফকরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম। তার বর্তমান ঠিকানা হাজারীবাগ থানার জিগাতলার সুলতানগঞ্জ এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট বটতলা শহীদ শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনের সড়কে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি এসে টিটনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে টিটন রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দিলে আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলিও ছুড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তারা আরও জানায়, দুর্বৃত্তদের দুজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত ছিল। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বছর ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাঈফ মামুনকে হত্যা করা হয়। পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় নাঈম আহমেদ টিটনের ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে।
২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি জামিনে থাকলেও আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।


















