Thursday , 30 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

বিবাহ নিবন্ধন খাতে শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: অনিয়ম ও দুর্নীতির জালে বন্দী কাজি ব্যবস্থা

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 30, 2026 4:06 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এক অগোছালো জালে বন্দি হয়ে পড়েছে দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা। বছরের পর বছর এই নৈরাজ্য চললেও সেবা খাতটিকে দুষ্টচক্রের হাত থেকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির চিত্র
​বিপুল অর্থনৈতিক লেনদেন: দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত কাজির সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় ২ লাখ টাকা ধরা হলেও বছরে এ খাতে মোট লেনদেন বা আয় দাঁড়ায় প্রায় ১,৪৪০ কোটি টাকা।
​রাজস্বে চরম অবহেলা: গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারের নামে কমিশন আদায় করা হলেও আদায়কৃত অর্থের ১ শতাংশও জমা হয় না রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
​আয়কর ফাঁকি: করনীতি অনুযায়ী বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয়ে কর দেওয়া বাধ্যবাধকতা থাকলেও কাজিরা তা মানছেন না। রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলেও সরকারের আয়কর পরিশোধে তীব্র অনীহা দেখা যায়।
​লাইসেন্স বাণিজ্য ও ঘুষ: মোটা অঙ্কের অর্থ ও রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া কাজি হওয়া অসম্ভব। জেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ১০ লাখ এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম বনাম বাস্তব চিত্র                                                  
​সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ফি জমা ও চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার স্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না: বিষয়সরকারি নির্ধারিত ফি / নিয়মবাস্তব চিত্র
লাইসেন্স ফিসিটি কর্পোরেশন: ২০,০০০ টাকা
জেলা সদর: ৪,০০০ টাকা
ইউনিয়ন পরিষদ: ১,০০০ টাকাফি জমা দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয়ের সঠিক নজরদারি নেই।
বার্ষিক ফিসিটি কর্পোরেশন: ১০,০০০ টাকা
জেলা সদর: ২,০০০ টাকা
ইউনিয়ন পরিষদ: ২০০ টাকাটাকা আদৌ জমা হয় কি না, তার নির্দিষ্ট হিসাব মন্ত্রণালয়ে নেই।
বিবাহ ও দেনমোহর ফিপ্রতি ১,০০০ টাকা দেনমোহরে (৫ লাখ পর্যন্ত) ১৪ টাকা। ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও জালিয়াতি
​জবাবদিহিতার অভাব: আদায়কৃত অর্থ জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নেই।
ভুয়া প্রতিনিধি ও লাইসেন্স ভাড়া: এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজিরা ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
মামলার জট: দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কাজির নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং রিট বিচারাধীন রয়েছে।
​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
​মো. আবদুল ওয়াহাব (সিনিয়র সহকারী সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়):
“কাজিরা ট্যাক্স দিচ্ছে কি না তা আমরা দেখি না, আমাদের কাজ শুধু রেজিস্ট্রেশন দেওয়া। অনিয়মের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কাটাতে সরকার ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমে ১০২টি স্পটে কার্যক্রম শুরু হবে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।”
​অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া (নির্বাহী সভাপতি, মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতি):
“নিয়ম মেনেই সরকারের কমিশন আদায় ও বছরে দুবার জমা দেওয়া হয়। কাজিরা ট্যাক্সও দেন। মূল সমস্যা তৈরি করছে কিছু ভুয়া কাজি, যারা ভুয়া ভলিউম ব্যবহারসহ নানা অপকর্মে জড়িত।”

সর্বশেষ - রাজনীতি