নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স-এ অবস্থিত স্বর্ণালঙ্কারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক সেলসম্যানকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতর নাম কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক (৪৭)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর এলাকার গৌর চন্দ্র বশাকের ছেলে।
সংস্থাটি বলছে, কর্মস্থল থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণ বিক্রির টাকায় হয়েছেন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক, কিনেছেন ফ্ল্যাট-গাড়ি এমন কি পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগ করেছেন।
বুধবার (১৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সর একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ করার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, তার পিতা বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এ প্রতিষ্ঠানটির একাধিক জুয়েলারি দোকান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্টক যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায় যে, গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি হতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান হতে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার হিসাব মিলছে না।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, স্বপন বশাক ওই প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজসে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন।
তদন্তকালে আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত স্বপন বশাক সেলসম্যান হিসেবে মাসিক আনুমানিক ১০-১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ, ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, পুঁজিবাজারে ১৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণ প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া যায়, যা আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের অংশ হতে পারে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও গ্রেফতারকৃত স্বপন বশাকের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালতে সোপর্দপূর্বক পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















