বুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদক
Newsdesk
এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম ওরফে রনিকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম রনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক রনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

নিহত অদিতা লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

নিহতের পরিবার জানায়, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে তিনি নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত