স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার: কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দিনদুপুরে চলন্ত বাসে গাছ ফেলে রোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের গুলিতে একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ডাকাত দল একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নগদ ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজের সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ও গুলিবিদ্ধদের পরিচয়
সাকিব (২১) ও একরাম (২২): ডাকাতদের হামলায় আহত (টেকনাফ পৌর এলাকা বাসিন্দা
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী ‘পালকি পরিবহন’-এর একটি বাস দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছে পৌঁছালে পাহাড় থেকে একদল সশস্ত্র ও মুখোশধারী ডাকাত নেমে আসে। তারা সড়কে পেরেক লাগানো গাছ ফেলে বাসটির গতি রোধ করে।
বাসটিতে একটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের ৩ জন বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ছিলেন। তারা টেকনাফের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে বাসে ঢুকে এজেন্টদের জিম্মি করে এবং সাথে থাকা নগদ ৬০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা গুলি ও হামলা চালায়, এতে ৩ জন আহত হন।
স্থানীয়দের ধারণা, এই চক্রটিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় কিছু সশস্ত্র দুর্বৃত্ত জড়িত রয়েছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি গহিন অরণ্যে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
দিনদুপুরে মহাসড়কে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান:
“ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাসটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পাহাড়ে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।”


















