Wednesday , 12 August 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. কুষ্টিয়া
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্রীড়াঙ্গন
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গাইবান্ধা
  15. গাজীপুর

মামলা নিতে ‘অস্বীকৃতি’ : ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রতিবেদক
Newsdesk
August 12, 2026 2:20 pm

অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (ফেনী) : যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান রোববার এ আদেশ দেন। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) তাঁর স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর জখমের অভিযোগ করেন। অন্য আসামিরা হলেন লোকমান হোসেন রিফাত, ইউসুফ আলী, রোহানা আক্তার রিছি ও বিবি আমেনা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন মারজাহান।
অভিযোগকারীর জবানবন্দি, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মারজাহানকে আসামিদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য তাঁর স্বজনরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসার কাগজপত্রে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তাঁর অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন।
শুনানির সময় একই থানায় আরেক গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২২) হত্যার অভিযোগে মামলা না নেওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তানিয়াকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এ সময় নিহত গৃহবধূর ঝুলন্ত অবস্থার একটি ছবিও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় বাদী দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান।
আদালত আদেশে আরও বলেন, পৃথক দুটি ঘটনায় অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্টেনোগ্রাফার মো. শামছুদ্দীন বলেন, আদালতের আদেশের পত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশের বিষয়টি শুনেছি। আমি আরও বিস্তারিত খোঁজ নেব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান বলেন, ‘এ ধরনের আদেশের বিষয় সাধারণত পুলিশ সুপার দেখেন। সেজন্য বিষয়টি আমি অবগত নই।’ তবে তানিয়া আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে নিহতের পরিবার প্রতিকার চেয়ে আদালতে যায় বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘এ ধরনের আদেশের কোনো পত্র এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টি এখনো অবগত নই।’

সর্বশেষ - রাজনীতি