নিজস্ব প্রতিবেদক :
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে নতুন উপ-হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন পেশাদার কূটনীতিক মুহাম্মদ খালেদ। চলতি মাসেই তিনি বর্তমান দায়িত্বস্থল চীনের কুনমিং থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছাবেন। চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তার নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে ভারত সরকার।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের উপ-হাইকমিশনের কর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মিশন হিসেবে কলকাতার এই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে নানা সময়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী অভিভাবকহীন ছিল। বিগত দুই বছর ধরে এখানে কোনো স্থায়ী উপ-হাইকমিশনার ছিলেন না। বিদায়ী কর্মকর্তা আন্দালিব ইলিয়াস শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হওয়ার পর মুহাম্মদ আশরাফুর এবং পরবর্তীতে ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) আয়েশা আক্তার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এবার মুহাম্মদ খালেদের নিয়োগের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হতে যাচ্ছে।
মুহাম্মদ খালেদ বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের একজন দক্ষ কর্মকর্তা। ২০০৬ সালে সহকারী সচিব হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিকের ইয়াঙ্গুন (মিয়ানমার), লিসবন (পর্তুগাল) ও এথেন্স (গ্রিস) মিশনে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি সার্ক, বিমসটেক, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উইংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং গ্রিসের এথেন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, কলকাতায় নতুন এই উপ-হাইকমিশনারের পথচলা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই কথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পুশব্যাকের প্রবণতা ও বাগযুদ্ধ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, তালিকা দেওয়ার পরও বাংলাদেশ তাদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করছে না। বিপরীতে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আদালতের রায় ছাড়াই ঢালাওভাবে পুশব্যাক করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অনুপ্রবেশ ও পুশব্যাক বিতর্ক ছাড়াও গঙ্গা ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অবস্থান নেওয়ার মতো জটিল রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর মুখোমুখি হতে হবে নতুন উপ-হাইকমিশনারকে। একই সাথে দুদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি ও জনগণের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখার গুরুদায়িত্বও থাকবে তার কাঁধে।

















