নিজস্ব প্রতিবেদক :
টানা চার বছর ধরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডিতেই আটকে আছে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি। অথচ একই সময়ে বিশ্ব রফতানি প্রায় ৭ শতাংশ বাড়লেও বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনামের বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
রাজধানীর প্রেসক্লাবে আজ সোমবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে।
র্যাপিডের কী নোট উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, সীমিত রফতানি বহুমুখীকরণ, কম বিদেশী বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বলা হয়, কভিড-মহামারীর আগে বাংলাদেশের রফতানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। ২০১৫ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। করোনার ধাক্কায় ২০২০ অর্থবছরে তা কমে ৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও ২০২২ অর্থবছরে তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
কিন্তু ২০২৩ অর্থবছরে তা আবার কমে ৪৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন, আর ২০২৪-এ ৪৪ দশমিক ৫ বিলিয়নে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি স্থির রয়েছে।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক রফতানি প্রায় ৭ শতাংশ বাড়লেও বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। একই সময়ে কম্বোডিয়ার রফতানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যেখানে স্থবির হয়ে পড়েছে, সেখানে প্রতিযোগী দেশগুলো নতুন বাজার ও নতুন পণ্যে দ্রুত অবস্থান শক্ত করছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৪ সালে রফতানি-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সময়ে বাণিজ্য-জিডিপি অনুপাতও ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। এতে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং মানসম্মত কর্মসংস্থানে রফতানির অবদানও কমছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আবার পোশাক রফতানির প্রায় ৭১ শতাংশই তুলাভিত্তিক, যেখানে বিশ্ববাজারে নন-কটন পোশাকের অংশ প্রায় ৫৯ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশ শুধু একটি খাতের ওপর নয়, সেই খাতেরও সীমিত কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ২০০৫-১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধির ৫ শতাংশেরও কম এসেছে নতুন পণ্য থেকে। বিপরীতে ভিয়েতনামে নতুন পণ্যের অবদান ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ, চীনে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মূলত একই ধরনের পণ্য বেশি পরিমাণে বিক্রি করে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, নতুন শিল্প ও পণ্য বিকাশে পিছিয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিড চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, সেগুলো মোকাবিলা করা ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। রফতানিকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমাদের অর্থনীতিকে সাজাতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ মতামত এবং পরামর্শগুলোকে ভবিষ্যতের রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।


















