২০২৯ সালে নতুন স্থাপনায় কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নির্মিত হবে ১৪টি ১২ তলা ভবন
অপরাধচিত্র প্রতিবেদন: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্থাপনায় ২০২৯ সালে সচিবালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বাড়তি কর্মপরিসর তৈরি হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সচিবালয়ের পুরোনো ভবনগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি ও স্থানসংকট মোকাবিলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরদিন প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
পুরোনো ভবনে নিরাপত্তাঝুঁকি, বাড়ছে স্থানসংকট:
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গার ওপর অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত।
সচিবালয়ের ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর পুরোনো ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। অন্যদিকে ৫ নম্বর ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৪৭ সালে। এসব ভবন নির্মাণের সময় আধুনিক ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়নি। ফলে ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা শহরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমান ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মপরিসর নেই। প্রয়োজনের তুলনায় ওয়াশ-ব্লকের সংখ্যাও কম। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব স্থাপনা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রয়োজনের তুলনায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অতিরিক্ত জায়গা:
বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাড়তি জায়গার চাহিদা এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম এক জায়গায় আনার জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের জন্য নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছে।
৩১ একরের বেশি জমিতে ১৪টি ভবন
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গাজুড়ে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। সেখানে মোট প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের দাপ্তরিক ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কমপ্লেক্সে মোট প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে ২০০টি গাড়ির জন্য ভূ-উপরিস্থ পার্কিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘরসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য
নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০২৯ সালে নতুন স্থাপনায় দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রকল্পের পরবর্তী প্রশাসনিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া, অনুমোদন এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য বাড়তি জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরোনো ভবনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


















