অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (কুমিল্লা): পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন ! মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করব, সেটা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ না, আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে আসছি।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর অভিযোগের জবাবে এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার। এরই মধ্যে পুলিশ সুপার ও ছাত্রদল নেতার বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে অভিযোগ তোলেন, ‘আপনি কুমিল্লা আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না, আমরা তথ্য দিলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।’ এই বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয় এবং তথ্য ছাড়া এভাবে কথা বলা সমীচীন নয়।
নিজের ছাত্র জীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি।’ ওই অনুষ্ঠানে তিনি (পুলিশ সুপার) পুলিশ বাহিনীর বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, কথা বলার আগে বাস্তবতা জানা দরকার। গত ৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন কোথাও পুলিশ ছিল না। সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ১৭ বছরে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে পুনর্গঠনের জন্য সময় দিতে হবে। একটি সরকারের বয়স মাত্র চার মাস, তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত। একটি শিশুরও খাওয়া শিখতে ৯-১০ মাস সময় লাগে।
বিচারহীনতার অভিযোগ খণ্ডন করে পুলিশ সুপার বলেন, বিচার হয় না– এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় বিচারক রায় দিয়েছেন, অনেকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তিনি নিজেই অনেককে গ্রেপ্তার করেছেন এবং অভিযোগপত্র দিয়েছেন বলে সভায় জানান।
বক্তব্যের বিষয়ে ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে ছাত্রদল নেতা মিঠু সমকালকে জানান, জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হন লাকসাম উপজেলার জিসান নামে এক যুবক। তাঁর বাবা বাবুল সর্দার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করে কান্না করছিলেন। আমি জুলাই যোদ্ধা হয়ে চুপ থাকব তা কি হয়? আমি কথা বলেছি জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার নিয়ে, একজন শহীদের বাবাকে রক্ষা করা নিয়ে। এর বেশি কিছু নয়।
নিজের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা। তবে ওই ছাত্রদল নেতা যে শহীদ (জিসান) পরিবারকে হুমকি দেওয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ওই ঘটনা ঢাকায় ঘটে। তাই তথ্য-উপাত্ত ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করার জন্য ছাত্রদল নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
















