নিজস্ব প্রতিবেদক :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। কিন্তু ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, এই পরিস্থিতি ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদ এসব কথা জানায়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও তাদের জীবন, জীবিকা, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটাররা যদি ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হন, তবে এর দায় তাদের ওপর চাপানো যাবে না।’
ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ধারাবাহিকতায় দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৪২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড রয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভয়ভীতির পরিবেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘মব ভায়োলেন্স’ এই ভয়কে আরও উসকে দিয়েছে। সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও যুবকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছেন না, অনেকে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছে ঐক্য পরিষদ। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি এর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে, যা পক্ষপাতমূলক ও দুর্ভাগ্যজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সংবিধান এখন গভীর হুমকির মুখে। এটি সংখ্যালঘুদের আরও প্রান্তিক করে তুলবে এবং নাগরিক হিসেবে তাদের সমান অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।’
এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে ঐক্য পরিষদ।

















