নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদনে ১২ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া চারটার দিকে র্যাব-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে আসামিকে থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ায় শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। গত শুক্রবার শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য মদন উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে ওই চিকিৎসক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহের নারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার জানান, গত নভেম্বরে মাদ্রাসা ছুটির পর ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে আটকে রেখে প্রথমবার ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পাঁচ থেকে সাতবার একই কাজ করা হয়।
চিকিৎসক আরও জানান, শিশুটি চরম ট্রমার মধ্যে ছিলো। কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলো। দীর্ঘ আলাপচারিতার একপর্যায়ে শিশুটি জানায়, তার ‘পেট ভার লাগে এবং ভেতরে কিছু একটা নড়ে’। পরীক্ষার পর জানা যায় সে অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটির শারীরিক গঠনের তুলনায় গর্ভস্থ সন্তানের আকার বড়ো হওয়ায় প্রসবকালীন জটিলতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মামুন মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর পরিবারকে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে শিশুটির মা রাজি না হওয়ায় শিক্ষক মামুন তার মাদ্রাসাটি বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের আগে অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঁচ মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন মামুন মিয়া। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মেয়েটি একসময় আমার মাদ্রাসায় পড়লেও আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।
র্যাব-১৪-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। শিশুটির মা বলেন, আমি কোনো আপস চাই না, আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে তার সঠিক বিচার চাই।


















