Friday , 31 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

সচিবালয়ে ৫০০ টাকায় পাস: সংরক্ষিত এলাকায় জমে উঠেছে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্য

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 31, 2026 12:33 am

অপরাধচিত্র রিপোর্ট : সরকার বদলায়, কিন্তু বদলায় না তদবিরবাজদের দাপট—শুধু পরিবর্তন ঘটে তাদের পরিচয়ে। কখনো তারা রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কখনো সংবাদকর্মী, আবার কখনো বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় একটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রবেশে কোনো বাধা নেই; কারণ সামান্য টাকার বিনিময়েই মিলছে প্রবেশ পাস। এভাবে নির্বিঘ্নেই চলে তাদের নানা অপতৎপরতা। কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত তদবিরবাজি যেন এক ‘স্থায়ী সংস্কৃতিতে’ পরিণত হয়েছে। মাত্র ৫০০ টাকায় সচিবালয়ে ঢুকে তারা কোটি কোটি টাকার তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, তদবিরবাজসহ যে কেউ চাইলেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন। আর এই পাস-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ সচিবালয়ের কিছু কর্মচারী ও পুলিশ সদস্য। এমনকি তদবিরের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রকাশ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি ও দরপত্রের বিল পাসসহ নানা কাজে তারা দালালি করছেন।
​সবচেয়ে বেশি তদবিরের চাপ সামলাতে হচ্ছে শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন, সড়ক ও সেতু এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে। এসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের দপ্তরে সকাল ১০টা থেকেই শুরু হয়ে যায় তদবিরের ভিড়। সাধারণ মানুষের চেয়ে দলীয় পরিচয়ের তদবিরই এখানে বেশি। কেউ মন্ত্রীর লোক, কেউ এমপি বা দলীয় নেতা, আবার কেউ এমপির আত্মীয়—এমন নানা পরিচয় ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিক তদবিরের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক চাপে পড়ে আমলারাও প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে ডিসি, ইউএনও কিংবা প্রেষণ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় স্থানে পছন্দের কর্মকর্তাদের পোস্টিং দিতে গিয়ে নানা দিক থেকে আসা তদবিরের চাপে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
​সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের অফিস সহায়ক আলী হায়দার ১ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের আইডি কার্ড পাঞ্চ করে জিএম সুমন ও জাকির হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করান। ভেতরে ঢোকার পর সাংবাদিক পরিচয়ধারী মোহাম্মদ আলী আবীর নামে এক তদবিরবাজের সঙ্গে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করলে অনুপ্রবেশকারীরা অফিস সহায়ক আলী হায়দারের নাম প্রকাশ করেন এবং জানান যে, নিয়মিতই তারা টাকার বিনিময়ে এভাবে প্রবেশ করতেন।                                                               ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আলী হায়দারকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠান এবং অনুপ্রবেশকারী দুজনকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
​অন্যদিকে, তদবিরবাজ আবীর নিজেকে দুটি অখ্যাত পত্রিকার ‘সিনিয়র রিপোর্টার’ দাবি করলেও কোনো অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, অর্থমন্ত্রীর পিএসের দপ্তর থেকে তার পাস ইস্যু করা হয়েছিল। বৈধ পাস থাকায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করা হলে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান। উল্লেখ্য, পূর্বে তদবিরবাজি প্রমাণিত হওয়ায় তথ্য অধিদপ্তর এই আবীরের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছিল। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় তিনি প্রায় প্রতিদিনই সচিবালয়ে ঢুকে তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
​সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপকমিশনার মাহমুদুল কবীর বলেন, ‘মঙ্গলবার সচিবালয়ের ভেতরে মোহাম্মদ আলী আবীর, জিএম সুমন ও জাকির হোসেনের মধ্যে তদবিরের টাকা নিয়ে হাতাহাতি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অপরাধ স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
​সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বহুজাতিক কোম্পানির এক প্রতিনিধির সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, এক পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিয়ে পাস নিয়ে তিনি নিয়মিত সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিবেদক পরিচয় গোপন করে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করলে তিনি তাতেই সম্মত হন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সচিবালয় থেকে বদলি করা হয়।

সর্বশেষ - রাজনীতি