বরিশাল প্রতিনিধি :
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের প্রতি দেশের প্রশাসন বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা এসব মন্তব্য করেন।
বরিশালের আর্যলক্ষী মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার, মহানগর এবং ৫৪টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় ৫ আগস্টের পর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন-নিপীড়ন, হামলা ও দখলদখলির মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরা হয়। অনেক প্রতিনিধিই কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামলার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এই দুঃসময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশংসা করে বলা হয়, তারা অত্যন্ত দ্রুত পাশে এসে দাঁড়ানোয় বহু পরিবার ও প্রতিষ্ঠান বেঁচে গেছে এবং এ মাটিতে বাঁচার স্বপ্ন ফিরে আসছে।
প্রতিনিধিরা আরও বলেন, এই দুর্দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও হিন্দুদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, এখনও কিছু কিছু জায়গায় হামলা হচ্ছে, প্রতিমা ভাঙচুর হচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর থাবা বিস্তার করেছে নিরব চাঁদাবাজি এবং হুমকি। সংখ্যালঘুদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
পুরো সময় ধরে সভায় উপস্থিত থেকে তৃণমূল পর্যায়ের হিন্দুদের ভোগান্তি ও হয়রানির কথা শোনেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি বাসুদেব ধর, সহ-সভাপতি তাপস পাল, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড শ্যামল রায়, গোপাল দেবনাথ, শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন ও বিপ্লব কুমার দে, সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস কুণ্ডু, সহ-প্রচার সম্পাদক অনয় মুখার্জি, সদস্য সুরঞ্জিত দত্ত লিটু প্রমুখ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভানু লাল দে ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা সভা পরিচালনা করেন।