নিজস্ব প্রতিবেদক :
কেউ মোনাজাত করছেন, কেউবা ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কেউ দাঁড়িয়ে আছেন নীরবে। ছবিও তুলছেন অনেকে। এ চিত্র রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করার ব্রিজ দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে হাজারও মানুষের ভিড়। যেন লোকে লোকারণ্য। এখানে সাধারণ মানুষের ভিড় যেমন রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ও কম নয়। দলবেঁধে কেউ এসে ফুলের তোড়া দিচ্ছেন। কেউবা মোনাজাত করছেন। অনেকেই ভিডিও করছেন, তুলছেন ছবি ও সেলফি।
কথা হয় রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে আসা ৫০ বছর বয়সী গৃহিণী আয়েশা পারভীনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চলে গেছেন। কাল টিভিতে সব দেখেছি, পুরো সম্প্রচার দেখেছি। তাই আজ চলে এলাম। খালেদা জিয়ার কবরের পাশে এসেছি তাকে শ্রদ্ধা জানাতে।
আয়েশা পারভীন আরও বলেন, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। একেবারেই সাধারণ মানুষ। খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বলেই এখানে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে খুলনা থেকে আসেন আব্দুল মনির (৫৭)। জানাজা শেষে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে চলে এসেছেন। উদ্দেশ্য কবর জিয়ারত।
আব্দুল মনির বলেন, আমি নব্বইয়ের আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলাম। তখন থেকেই বিএনপি করি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব কাজ করেছি, রাজনীতি করেছি। গতকাল সকালেই ঢাকায় এসেছি। জানাজা শেষে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছি। খালেদা জিয়ার জানাজা স্মরণকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জানাজা। আজ আসরের নামাজ পড়ে এখানে দোয়া করছি। কবর জিয়ারত করেছি।
গুলশান থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জামিউল ইসলাম রাহাত জাগো নিউজকে বলেন, সমাধিস্থলের পাশে আমরা মঞ্চ তৈরি করছি। এখানে আলেম ওলেমা ও হুজুররা কোরআন তেলাওয়াত করবেন। তারা দোয়া করবেন। এই মঞ্চ এখানে ৪০ দিন থাকবে।
এদকে, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি সেসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল থেকে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে সমাধিস্থলে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।


















