বুধবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

শহীদ জিয়ার আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ব : এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১:৫১ অপরাহ্ণ

আলমগীর হোসেন : রাজনীতি ছাড়া বৈশ্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় কিভাবে রাজনীতিকরা তাদের দেশকে সমৃদ্ধির প্রতিটি সোপান টপকেছেন নিষ্ঠা আর দৃঢ়তার সাথে।
রাজনীতিকরাই পারেন একটি জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে। রাজনীতির অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় সময়ে সময়ে দেশ-জাতির ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরেছেন বিভিন্ন পেশা থেকে আগত রাজনীতিকরা। পেশাগত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পরও অনেক গুণী মানুষ নিজেকে উজাড় করেছেন গণমানুষের জন্য। এই তালিকায় অনন্য নাম এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। নিজের পেশা এবং পেশাগত পদ-পদবী ছাপিয়ে তিনি এলাকার মানুষের কাছে ‘আলতাফ ভাই’য়ে পরিণত হয়েছেন। এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী থেকে আলতাফ ভাই হতে গিয়ে পোড়াতে হয়েছে অনেক কাঠ-খড়। রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে তিনি চলতে চলতে জ্বলে উঠেছেন, জনগণের কাছে পরিণত হয়েছেন পরীক্ষিত নেতায়; জনপ্রিয় হয়েছেন স্বর্বস্তরের মানুষের কাছে। রাজনীতির বাইরে থাকা মানুষটি ধীরে ধীরে পুরোদস্তুর শুধু রাজনীতিকই হয়ে ওঠেননি তিনি হয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের ‘প্রিয় মানুষ’।
এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী সামরিক ও রাজনৈতিক- উভয় জীবনেই শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সফল সামরিক ক্যারিয়ার এবং জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তার জীবনকে করেছে গৌরবোজ্জ্বল। কর্মনিষ্ঠা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্ববোধের কারণে তিনি আজ দেশের একজন সম্মানিত, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী একজন সহজ-সরল, সৎ, নির্ভীক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। সামরিক ও রাজনৈতিক- উভয় অঙ্গনেই তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ১৯৪১ সালে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কাঠালতলী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই শৃঙ্খলা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের আদর্শে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন, যা পরবর্তী জীবনে তার সাফল্যের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী তার কর্মজীবন শুরু করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে একজন যোদ্ধা পাইলট হিসেবে। তিনি আধুনিক যুদ্ধবিমান ড্যাসল্ট মিরাজ-৩ এর প্রধান পাইলট হিসেবে দক্ষতা ও পেশাগত নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি বহু দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক পাইলট গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ধাপে ধাপে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হন। অবশেষে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে তার ভূমিকা বিমান বাহিনীর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৫ সালে সফল সামরিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। রাজনীতির অঙ্গনেও তিনি সততা, নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন তিনি।
মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি দায়িত্বশীলতা, দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেন। বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরগুনা ও বরিশাল অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। পটুয়াখালী-বরিশাল-বরগুনা মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন, বরিশাল-বরগুনা মহাসড়কের সংস্কার এবং পটুয়াখালী জেলার ধুমকি ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন তার অন্যতম বড় অর্জন। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার উদ্যোগে এলাকায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির নির্মিত হয়, যা শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি বহু শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তিনি জনগণের কাছে আরও সমাদৃত হয়ে ওঠেন।
২০০৮ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর এবং ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পটুয়াখালী-১ আসনের রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত, অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাফল্যের পাল্লাই ছিল ভারী। প্রায় আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করার পর তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ২০০৪ সালে। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও তার ঝুলিতে জমা হয় সাফল্যের ধারা। এই ধারাবাহিকতায় তিনি একাধিকবার ডেলিগেশন নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- অস্ট্রেলিয়া, সেনেগাল, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, মায়ানমার, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, কেনিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, চীন প্রভৃতি দেশ। একজন বিজ্ঞ সংসদ সদস্যের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। এগুলোর মধ্যে-
চেয়ারম্যান- ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাজেশন, এডভাইজরি কমিটি, চেয়ারম্যান- ন্যাশনাল এসিড কাউন্সিল কমিটি চেয়ারম্যান- ন্যাশনাল টাস্ক-ফোর্স ফর, পলিসিস অব এসেনসিয়াল কমোডিটিস প্রেসিডেন্ট (এক্সপোর্ট) কেবিনেট সাব-কমিটি, চেয়ারম্যান- বোর্ড অব ম্যানেজমেন্ট অব এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো, চেয়ারম্যান- বোর্ড অব গভর্নরস অব বিএফটিআই (বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সস্টিটিউট), চেয়ারম্যান- ইমপোর্ট কনসালটেটিভ কমিটি, চেয়ারম্যান- কমিটি অন ল এন্ড অর্ডার, প্রেসিডেন্ট- স্যোসাল কমপ্লেইন ফোরাম ফর আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস)।
দীর্ঘদিনের রাজনীতির অভিজ্ঞতার আলোকে আলতাফ হোসেন চৌধুরী নির্বাচনী এলাকায় একান্ত আপন মনে কাজ করছেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে আজ অবধি তিনি রয়েছেন এলাকাবাসীর পাশে। ক্ষমতায় যখন দল ছিল, তিনি যখন মন্ত্রী ছিলেন, উন্নয়নের জন্য তার পদচারণা ঘটেনি এমন কোন এলাকা নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি নজর দিয়েছেন তার এলাকার উন্নয়নের দিকে। তার সময়ে দুমকী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়। এটি সম্ভব হয়েছে আলতাফ হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।
পটুয়াখালী লাউকাঠী নদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হয়; এ ব্রীজটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ ব্রীজটির দাবি পটুয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল- যার সফল বাস্তবায়ন করেন তিনি।
ফলে পটুয়াখালী শহর রক্ষা বাঁধটি পটুয়াখালীর জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সে দিকে খেয়াল রেখেই তিনি তার দায়িত্ব পালনকালেই বাঁধটির কাজ শুরু করেন। এবং নির্দিষ্ট সময়ে সাফল্যের সঙ্গে শেষও করেন। তার নির্বাচনি এলাকা পটুয়াখালীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ শুরু করেন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এবং তিনি এটিও সফলভাবে শেষ করেন। এরপর পটুয়াখালীর মানুষের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখন আর হুটহাট ছুটে যেতে হয় না বরিশাল কিংবা ঢাকায়। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও তিনি করেন।
বাকেরগঞ্জ কাঁঠালতলী সুবিদখালী বেতাগী-বরগুনায় যে সড়কটি ছিল তা ছিল যোগাযোগ অনুপোযোগী। এই সড়কটির প্রভুত উন্নয়ন তিনি করেছেন। যার ফলে এই সড়ক দিয়ে ঢাকার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রটি উন্মোচিত হয়। এই সড়কটির কল্যাণেই এখানকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। পটুয়াখালী সুবিধখালী চান্দখালী বরগুনায় যে সড়কটি হয়েছে এটিও তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত আলতাফ হোসেন চৌধুরী এলাকার মানুষের শিক্ষালাভের বিষয়ে বারবরই ছিলেন সচেতন। আর সচেতন ছিলেন বলেই তিনি কাঁঠালতলীতে আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শুধু কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেই থেমে থাকেননি। এখানে তিনি ছাত্র-শিক্ষকদের থাকারও ব্যবস্থাও করেছেন হোস্টেল স্থাপন করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
শিক্ষানুরাগী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বহু স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এমপিওভূক্ত করেছেন, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি অনুদান দিয়েছেন।
ধর্মপ্রাণ এ মানুষটি প্রায় ৩০/৩৫টি মসজিদের সংস্কার কাজ করেছেন, মন্দিরের সংস্কার করেছেন, নতুন মন্দির-মসজিদও নির্মাণ করেছেন। জনসাধারণের সুস্বাস্থ্যের জন্য হাসপাতাল, মেডিকেল ইক্যুপমেন্ট, অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার-নার্স এবং মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট-এর ব্যবস্থা করেছেন। গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের প্রিয়ভাজন হয়েছেন। দুঃস্থ মানুষের জন্য টিআর, জিআর-এর ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষাভাতা, বয়স্কভাতা, দুঃস্থ মহিলা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা ইত্যাদি দিয়ে অসহায়-বঞ্চিতদের জন্য কাজ করেছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা একাডেমী খাতে তিনি প্রভূত অবদান রেখেছেন। ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার, নতুন থানা, এসপি অফিস, নতুন ফাঁড়ি করেছেন।
তিনি শুধু রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনই করেননি; এলাকাবাসীর জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পালন করেছেন সুচারুভাবে। এলাকার মেধাবী ছাত্রদের পড়াশোনার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার পাশে থেকে দায়মুক্ত করেছেন পিতাকে।
নির্বাচনী এলাকায় তিনি সর্বত্র জনপ্রিয়। এলাকায় ধর্ম-মত-দল হিসেবে সকলে এক কাতারে অবস্থান নিয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের মুখোমুখি হলে বেশ খোলামেলাভাবে তিনি নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এখানে তুলে ধরা হলো উল্লেখযোগ্য অংশ-
অপরাধচিত্র: দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন বিভিন্ন উচ্চপদে। রাজনীতিতে এসেছিলেন ঠিক কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করে?
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: চাকরি করেছি নিষ্ঠার সাথে। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর অফুরন্ত সময় হাতে। মনের ভিতরে ছিল এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছে। পরিবর্তনের আশা ছিল মনে। এগুলোর জন্য প্রয়োজন ছিল সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার। আর এর জন্যই প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসা। প্রতিটি মানুষই রাজনীতি সচেতন। আমিও এর বাইরে নই। প্রত্যক্ষ রাজনীতি যখন করবো তখন যাঁর রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে কাছে টেনেছে, তিনি হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। সুতরাং জাতীয়তাবাদী দলের পতাকাতলে আসাই শ্রেয় মনে করেছি। জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। দেশ জাতির জন্য সামান্য হলেও কিছু করার চেষ্টা করেছি। দলও আমার মূল্যায়ন করেছে।
আমাকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে।
অপরাধচিত্র: বিজ্ঞমহলের মতে রাজনীতিতে এখন বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি?
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বৈরী পরিবেশ বলুন আর প্রতিকূল পরিবেশ যাই বলুন, এটি শুরু হয়েছে মাত্র অল্পদিন আগে। আমি বলতে চাইছি, এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে। যেভাবে দেশের রাজনীতিবীদদের চরিত্র হনন আর রাজনীতকদের রাজনীতির বাইরে রাখার অপচেষ্টা হয়েছিল তাতে এ রকমটি হওয়াই স্বাভাবিক। ওদের চাপিয়ে দেয়া অনেক কিছুই আমাদের বহন করতে হচ্ছে। এগুলো কিন্তু রাজনীতিবীদদেরই ঠিকঠাক করতে হবে। যা কিছু খারাপ তা এক সময় দূরে সরে যাবে। আলোর বিচ্ছুরণ শুরু হলে সকল আঁধার কেটে যাবে। আমাদের সন্তানরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হবে।
অপরাধচিত্র: রাজনীতিতে আপনার পথচলা কতোটা স্বাচ্ছন্দ্য ছিল?
অপরাধচিত্র: বিগত সরকারের আমলে দেশে কোন রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল না। ১৬ বছর জুড়েই বিরুদ্ধ মত দমনই ছিল প্রধান নীতি। গত ১৬ বছরে আমার বিরুদ্ধে কয়টি মিথ্যা মামলা হয়েছে তার হিসাবই হারিয়ে ফেলেছি। গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজিরা দেওয়া ছিল প্রতিদিনের কাজ হয়ে গিয়েছিল। একাধিকবার জেল খেটেছি। ৮০০ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন রাজনীতিতে কতোটা বৈরি পরিবেশের মধ্যে আমাদের কাটাতে হয়েছে।
অপরাধচিত্র: নির্বাচন আসন্ন। সেক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতি কেমন?
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আমি যেহেতু জনগণের জন্য কাজ করছি; সেক্ষেত্রে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। শুধু নির্বাচন নয় নির্বাচনের আগেও আমি জনগণের পাশে ছিলাম, সাথে ছিলামÑ এখনও আছি। এখনও এলাকার প্রতিটি ঘরে আমার নিয়মিত যাতায়াত আছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারন করে রাজনীতি করছি। তাঁর আদর্শের আলো বাংলার প্রতিটি ঘরে জ্বালিয়ে রাখতে চাই।
অপরাধচিত্র: আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আপনার সময় আর বর্তমান সরকারের সময়ের তুলনামূলক চিত্র আপনি কিভাবে দেখেন?
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আমি যদি নিজের মূল্যায়ন করি তাহলে বলবো আমি পুরোপুরি সফল। দেশবাসীই এ কথা বলবে। ইতিহাস তো তার আপন পথেই চলে। কারো কাজের সাথে কারো কাজ এতোটা সরাসরি কম্পেয়ার করা ঠিক হবে না। আমার চেয়ে দেশের মানুষই ভালো মূল্যায়ন করতে পারবে অতীত আর বর্তমানের।
অপরাধচিত্র: আপনার দলের সাধারণ সদস্য এবং আপনার নির্বাচনী এলাকার গণ-মানুষের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আমার দলের সকলকে বলতে চাই, সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকুন। কোন প্রলোভনে নয় আদর্শের সাথে থাকুন, কোভাবেই আদর্শচুত্য হবেন না। শহীদ জিয়ার আদর্শের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আটকাতে পারে এমন কোন শক্তি নেই। আমরা সকল অপশক্তি মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারি এমন ইতিহাস আমাদের আছে।
আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বাড়ির উঠোনে আছে আমার পায়ের ছাপ। আমি জানি তাদের কোথায় কি সমস্যা। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি তাদের পাশে থাকতে এবং আছিও। সবশেষে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই- আমরা শান্তি চাই, শান্তি চাই, শান্তি চাই।
অপরাধচিত্র: আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ, ধন্যবাদ রইলো অপরাধচিত্র’র অগনিত পাঠক ও আমার দেশবাসীর প্রতি।

সর্বশেষ - রাজনীতি