শুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. প্রবাসের কথা
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় যেসব বিএনপি নেত্রী

প্রতিবেদক
Newsdesk
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়লাভের ভিত্তিতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী শিগগিরই দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। ইতোমধ্যে শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার অনেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাবেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকেই। ফলে এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। ফলে তারাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন আয়োজন করা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক।

এদিকে বিএনপি সূত্র জানায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। তাদের অনেকেই এখন সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন যারা

সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরও আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদের নামও এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন

বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে দলটি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। দলে বহু যোগ্য নেত্রী রয়েছেন, যারা মনোনয়নের আশায় সক্রিয় রয়েছেন। সবদিক বিবেচনা করেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন। তবে এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন জানান, তিনি ছাত্রদল দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং নানা বাধা অতিক্রম করে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ত্যাগ-তিতিক্ষা, জেল-জুলুম ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন। দল যদি তাঁকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য উপযুক্ত মনে করে, তবে দলের সিদ্ধান্তই তিনি মেনে নেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত