নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তাঁর স্ত্রী লুৎফুল তাহমীনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই অনুমোদন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আক্তার হোসেন।
দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, আসামি লুৎফুল তাহমীনার নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৮ কোটি ৪৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৭৪ টাকা। এ ছাড়া পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা। ফলে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকা।
তবে এই সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৫ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা। অর্থাৎ লুৎফুল তাহমীনার নামে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস তদন্তে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে আরও দেখা যায়, লুৎফুল তাহমীনার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকার উৎস সন্দেহজনক। দুদকের মতে, এই অর্থ ঘুষ বা উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকতে পারে এবং তা স্থানান্তর, রূপান্তর ও লেয়ারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার সম্পদের মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাণিজ্যিক স্পেস, ব্যাংক স্থিতিসহ বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে লেনদেন হওয়া ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকাসহ মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লুৎফুল তাহমীনার মালিকানাধীন স্থাবর সম্পদের মধ্যে ফ্ল্যাট, জমি ও দোকান রয়েছে। অন্যদিকে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক শেয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, যাত্রী পরিবহন বাসসহ বিভিন্ন সম্পদ।


















