অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (রংপুর): রংপুরের পীরগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, পীরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন নিজ সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন কিন্তু নির্মাণ চলাকালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বাতেন মিয়া নামে একজন। চাঁদা না দেওয়ায় তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন অনুগত দলবল নিয়ে।
এ ঘটনা ঘটে গত ৬ জুলাই সোমবার সকালে। শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা বাতেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১১ জন দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এর পর তিনি চাঁদা না পেয়ে হুমকি দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাতেন মিয়া এলাকায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। চাঁদার দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা আমিনুল ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি বৈধভাবে আমার সম্পত্তির মালিক, যার দলিল নম্বর ৫৭৪২/২৫। সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করছিলাম। দলের প্রভাব খাটিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে বাতেন মিয়াসহ তার সহযোগীরা। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাতেন মিয়া স্থানীয়ভাবে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সাক্ষী সিমা বেগম, রবিউল মিয়া ও রিপন মিয়াসহ অনেকেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাতেন মিয়া বলেন, আমার যা করণীয় আছে তাই করব, সেটা আপনাকে বলা লাগবে কি?
উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে আসলে দেখব। দলের কোনো পরিচয় দিয়ে কেউ কোনো অন্যায় করলে দল তাকে প্রশ্রয় দেবে না। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিনা তা না জেনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক বলেন, এ ধরনের অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, তবে কোনো দলীয় পরিচয় দেখার বিষয় না। ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















