অপরাধচিত্র প্রতিবেদক (কুমিল্লা): কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে প্রাইভেট হাসপাতালে সময় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেডিওলজিস্ট ডা. শিব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিদিন শত শত রোগী বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
অভিযুক্ত চিকিৎসককে কুমেক পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধানের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও গত দেড় বছর ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে একাধিক প্রাইভেট হাসপাতালে সময় দিচ্ছেন।
সরেজমিন কুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা নিতে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে হাজার হাজার রোগী আসেন এ চিকিৎসালয়ে। এদের অনেকে রোগ নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করাতে হয়।
দুঃখের বিষয় হলো এ বিভাগে দৈনিক ২০ জন রোগীর বেশি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সিরিয়াল নেওয়া হয় না। পরে রোগীদের কৌশলে তালের মাধ্যমে কুমেকের বাইরে অবস্থিত নির্দিষ্ট দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয় এবং বলা হয় সেখানে গেলে ডা. শিব্বির আহমেদকে দিয়ে পরীক্ষা করানো যাবে।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমেকের রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে অভিযুক্ত ডা. শিব্বির আহমেদকে পাওয়া যায়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে কুমেক হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডা. শিব্বিরের সন্ধান মেলে।
সেখানে কয়েকজন রোগী দেখে, ঠিক আধা ঘণ্টা পর হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড করতে দেখা যায় তাকে।
এ সময় তিনি এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ত্যাগ করে সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে প্রতিবেদকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। পরে একাধিক বহিরাগত দিয়ে ফোন করে অর্থনৈতিক প্রস্তাব করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে একাধিক ব্যক্তি জানান, ডা. শিব্বির আহমেদ বেশির ভাগ সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে হসপিটালে আসেন।
এরপর হাজিরা দিয়েই তিনি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার গিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করেন। পুনরায় সাড়ে ১০টার হাসপাতালে প্রবেশ করে কয়েকজন রোগী দেখে আবারও প্রাইভেটে গিয়ে রোগী দেখেন। এভাবে গত দেড় বছর যাবত তিনি প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ বার ডিউটি রেখে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। বিষয়টি হাসপাতালে এখন ওপেন সিক্রেট। তিনি কুমিল্লার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।
চাঁদপুর থেকে আসান নাঈমা জান্নাত নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, সকাল সোয়া ১১টায় আল্ট্রাসাউন্ডের টিকিটের জন্য গেলে সেখান থেকে বলা হয় ২০ জন জন হয়ে গেছে আর আল্ট্রা করানো যাবে না। তবে ইউনিক ও হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে ডা. শিব্বির আহমেদকে দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা যাবে। পরে বাধ্য হয়ে হেলথ ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডা. শিব্বিরের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করি।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সালাউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ডা. শিব্বির আহমেদকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে তিনি যেন অফিস চলাকালীন সময়ে বাহিরে প্রাইভেটে প্র্যাকটিস না করেন। কারণ এটি সরকারি চাকরিবিধি ও নিয়মমালার কাজ। তার নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রেডিওলোজী বিভাগে দায়িত্ব প্রাপ্তদের অফিস টাইমে বাহিরে গিয়ে রোগী না দেখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যেহেতু ডা. শিব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে বাহিরে গিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

















