জাহিদ হাসান, নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
সরকারি অর্থায়নে বহুতল বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম এতটাই গুরুতর ছিল যে, শেষ পর্যন্ত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে হচ্ছে। ঠিকাদার নিজের খরচে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করলেও, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত সাড়ে পাঁচ মাসেও কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার ‘কালাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ভবন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে সরকারের উন্নয়ন কাজের তদারকি, জবাবদিহি এবং আইনের প্রয়োগ নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নকশা জালিয়াতি ও অনিয়মের নেপথ্যে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৬ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে কাজটি বাস্তবায়ন করে মেসার্স ফাইভ ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন, অনুমোদিত নকশায় সুনির্দিষ্টভাবে ‘পাইলিং’ করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কোনো পাইলিংই করা হয়নি। তার বদলে নামমাত্র সাধারণ আরসিসি বেইজ ফাউন্ডেশনের ওপর পুরো বহুতল ভবনটি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যাপক নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভবনটি ভেঙে ফেলে নতুন করে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে তা পুনর্নির্মাণ করছে।
অভিযোগের পাহাড়, কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার
ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে এখানে গুরুতর জালিয়াতি ও দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রতা ও রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়:
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং নেত্রকোণার জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়।
অভিযোগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

















