অপরাধচিত্র প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষ্য দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) বস্ত্র অধিদপ্তরের (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির।
দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, এ নিয়ে মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছাড়েন।
ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। এ বছরের ৮ মার্চ মামলার এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ৩ মে তাঁর অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়ার তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে তাঁর বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ তাঁর এসব অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশের’ ভিত্তিতে গত ১২ জুন বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


















