Saturday , 18 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কুমিল্লা
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গাইবান্ধা
  11. চট্রগ্রাম
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ঝালকাঠি
  15. ঝিনাইদহ

অন্তরালের নায়ক পাবলো আইমার

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 18, 2026 5:17 pm

স্পোর্টস ডেস্ক :

কিছু লোক আছে যারা সবসময় আলোচনায় আসেন না। বিশ্বব্যাপী যাদের নিয়ে আলোচনা হয়, বিশ্বে যারা আলো ছড়ায়, ইতিহাস গড়ে ওই ব্যক্তিরা তাদের তৈরি করেন। তেমনি একজন আর্জেন্টাইন কোচিং স্টাফের সদস্য সহকারী কোচ পাবলো আইমার। যিনি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিরও আইডল। যাকে বলা হয় আর্জেন্টিনার মার্জিত ফুটবল জাদুকর। ওই প্রজন্মের সেরা প্রতিভাবান ও সৃজনশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ভাবা হতো তাকে।

পাবলো আইমার আর্জেন্টিনার রিও কুয়ার্তোতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৭৯ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মগত। তার বাবা ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার। বাবা চাইতেন ছেলে ফুটবলের পাশাপাশি পড়াশোনাটাও ঠিকঠাক করুক। আইমার একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্নও দেখতেন। কিন্তু ফুটবল-বিধাতা তার হাতে স্টেথোস্কোপের বদলে পায়ে বল তুলে দিয়েছিলেন।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল ক্লাব রিভার প্লেটের যুব একাডেমির ট্রায়ালে যান আইমার। তার পায়ের কাজ এবং অবিশ্বাস্য ফুটবল বুদ্ধি দেখে তৎকালীন যুব কোচ এবং কিংবদন্তি দানিয়েল পাসারেলা তাকে ক্লাবে নেওয়ার জন্য এক মুহূর্তও ভাবেননি। ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রিভার প্লেটের মূল দলের হয়ে আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগে তার অভিষেক ঘটে।

২০০৮ সালে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকায় যোগ দেন। শুরুতে চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও ধীরে ধীরে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন নিজের স্বভাবজাত ফুটবলে। যেখানে বল নিয়ন্ত্রণ, খেলা কন্ট্রোল ছিল তার প্রধান কাজ। ২০০২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পান। ২০০৫ সালে ফিফা কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে চিরিপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচে একটি গোল করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ৫২ ম্যাচে ৮ গোল আইমারের।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ হন। তার অধীনেই সেবার কোপা আমেরিকা ২০১৯ অনূর্ধ্ব-১৭-এর চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে আইমার যেভাবে বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল খেলতেন, কোচিং ক্যারিয়ারেও সেই সৃজনশীলতা বজায় রাখেন। ২০১৮ সালে তিনি লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন। কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের নেপথ্যের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।

প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে মিলে তিনি একটি ‘ট্র্যাক্টিক্যাম ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা নমনীয় কৌশল তৈরি করেছেন, যা প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে ম্যাচের মাঝেই দ্রুত রণকৌশল পরিবর্তন করার পেছনে আইমারের ফুটবল দর্শনের ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তা ছাড়া আর্জেন্টিনার স্কোয়াড সাজানো, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করা, মেসিকেন্দ্রিক আক্রমণ সাজানোর কাজ, প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিন থেকে মুক্ত রাখতে সতীর্থরা কীভাবে তাকে ব্যাকআপ দেবে সেই গেমপ্ল্যানও সাজান তিনি। তরুণ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা কোচের কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে সেটা অত্যন্ত বন্ধুসুলভভাবে বুঝিয়ে দেন।

আর্জেন্টিনার সেটপিসে সফলতার পেছনে স্যামুয়েল ওয়াল্টারের সঙ্গে পাবলো পরিকল্পনা সাজান। স্যামুয়েল যখন আক্রমণাত্মক সেটপিসের দিকে নজর দেন তখন পাবলো প্রতিপক্ষের ডেটা অ্যানালিস্ট করে তাদের দুর্বলতা বের করে আনেন।

 

 

সর্বশেষ - রাজনীতি