নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে এক সংঘবদ্ধ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এছাড়াও চক্রটির বিরুদ্ধে রয়েছে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগও।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪), এবং কাওসার হোসেন (৪২)।
সোমবার (২০ জুলাই) সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মঙ্গলবার (২১জুলাই) মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ইতালিপ্রবাসী স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য এক নারী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। পরে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে এরই মধ্যে অন্য এক নারী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন।
এ তথ্য শুনে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির মানবপাচার শাখা দ্রুত তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বলেন, ‘‘মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতাররা সংঘবদ্ধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে। এরপর তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠায়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গ্রেফতার চক্রের মূলহোতা বেলায়েত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠান। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন। বর্তমানে তিনি একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে বিমানবন্দর (ডিএমপি) থানায় ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’’


















