নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে তদবির বাণিজ্য চালানোর অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগ এ অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও বকুল মণ্ডল। তাদের কাছ থেকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেড প্যাড চার বান্ডিল, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত ৪১টি সিল, প্রতারণা ও জালিয়াতিতে ব্যবহৃত আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, চাকরিচ্যুত এক কর্মচারীকে পুনর্বহালের জন্য সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশপত্র পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিবিকে অনুরোধ জানায় মন্ত্রণালয়। তদন্তে ডিবি জানতে পারে, চক্রটি শুধু জাল চিঠিই তৈরি করেনি, বরং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছিল। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সাত টিটিসি স্থাপন প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ফাইল তৈরি করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রায়োরিটি’ লেখা সিলের নকল ব্যবহার করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র গড়ে তুলে প্রতারণামূলক তদবির কার্যক্রম চালাতে থাকেন।
ডিবিপ্রধান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির ধারাবাহিক অভিযানে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কালকিনি থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার মাসুম মুনসীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য বকুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার জানান, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে তদবির–বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্যাড, জাল সুপারিশপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাত।


















